
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার সুন্দরবনসংলগ্ন শ্যামনগর উপজেলায় সূর্যমুখী চাষ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। লবণাক্ততার চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও এ উপজেলায় ধান কাটার পর পতিত জমিতে সূর্যমুখী চাষ করে ভালো ফলন পাচ্ছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে শ্যামনগরে প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে ভূরুলিয়া ইউনিয়নে, প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, লবণসহনশীল হাইসান-৩৬ জাতের সূর্যমুখী তুলনামূলক কম সময়ে উৎপাদন হয় এবং বাজারমূল্যও ভালো। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে এটি একটি লাভজনক ফসল হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
ভূরুলিয়া ইউনিয়নের কৃষক শমন মণ্ডল ও ধানখালী গ্রামের কৃষক রমেশ সরকার জানান, আগে ধান কাটার পর জমি পতিত থাকত বা কম লাভজনক ফসল করা হতো। এখন সূর্যমুখী চাষে কম খরচে ভালো আয় হচ্ছে। বিশেষ করে এর বীজ থেকে উৎপাদিত তেলের বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে।
তবে কৃষকদের একটি অংশ জানান, সূর্যমুখীর বীজ থেকে তেল উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে তাদের পর্যাপ্ত ধারণা নেই। সহজ প্রক্রিয়ায় তেল নিষ্কাশন ও শোধনের ব্যবস্থা থাকলে চাষ আরও বাড়বে বলে তারা মনে করেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন মণ্ডল ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহিউদ্দীন জানান, শ্যামনগরে সূর্যমুখী একটি সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে। ভূরুলিয়া ইউনিয়নে প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে এবং কৃষকদের সহায়তায় তেল নিষ্কাশন ও শোধনের জন্য একটি মেশিনও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সূর্যমুখী ক্ষেতের হলুদ ফুলের সৌন্দর্য দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরাও ভিড় করছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দিচ্ছেন, যা এলাকাটিকে নতুন করে পরিচিত করছে।
কৃষি বিভাগের মতে, প্রয়োজনীয় সহায়তা ও বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করা গেলে শ্যামনগরে সূর্যমুখী চাষ আরও সম্প্রসারিত হয়ে কৃষকের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
