
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের নির্বাচনী মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে শ্যামনগর হরিচরণ সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠ, সরকারি মহসিন কলেজ মাঠ ও জাতীয় ঈদগা মাঠ এলাকায় এ সমাবেশ হয়।
সমাবেশে শ্যামনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ছাড়াও কালিগঞ্জ, দেবহাটা ও আশাশুনি উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। মাঠে জায়গা না পেয়ে অনেককে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে বক্তব্য শুনতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি শ্যামনগরের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক সমাবেশ। সমাবেশে নারীদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল।
মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল তাঁর বক্তব্যে বলেন, “জামায়াতে ইসলাম ক্ষমতায় গেলে মা-বোন ও সংখ্যালঘুদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এ দেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষ সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবে।” তিনি আরও বলেন, নারীদের কর্মক্ষেত্রে অগ্রসর করতে জামায়াতে ইসলাম কার্যকর উদ্যোগ নেবে।
সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে প্রচলিত গুঞ্জনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলাম ক্ষমতায় গেলে সংখ্যালঘুরা বঞ্চিত হবে—এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা ন্যায়বিচার ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর।”
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিগবাতুল্লাহ শিগবা। তিনি বলেন, “দেশের ১৮ কোটি মানুষের সমস্যার সমাধানে জামায়াতে ইসলাম প্রস্তুত। নির্বাচনের সময় বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা থেকে সতর্ক থাকতে হবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য নির্বাচিত ভিপি সাদেক কাইয়ুম বলেন, “জামায়াতে ইসলাম একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। এ দল কোনো ধর্ম বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়; বরং সকল মানুষের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা খলিলুর রহমান, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির শহিদুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আজিজুর রহমান এবং খুলনা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী কৃষ্ণানন্দ।
কৃষ্ণানন্দ বলেন, “জামায়াতে ইসলামের রাজনীতিতে সংখ্যালঘু বিদ্বেষ নেই। ক্ষমতায় গেলে সংখ্যালঘু ও নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।”
সমাবেশের শেষপর্বে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সহিংসতা ও দুর্নীতিমুক্ত শ্যামনগর গড়াই আমাদের লক্ষ্য। উপকূলীয় এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ, নিরাপদ পানি ও বনজীবীদের সুরক্ষায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
