
সিরাজুল ইসলাম : বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু পরিবর্তন, অতি-লবণাক্ততা এবং বারবার আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে আছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই বনের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপকূলবর্তী লোকালয় ও পর্যটকদের ফেলে দেওয়া একবার ব্যবহারযোগ্য (ওয়ান-টাইম) প্লাস্টিক সামগ্রী জোয়ার-ভাটার স্রোতে মিশে যাচ্ছে সুন্দরবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে, যা এখন রূপ নিয়েছে মারাত্মক।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ডিসিপ্লিন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় সুন্দরবনের মাটি, পানি ও মাছের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উদ্বেগজনক উপস্থিতি ধরা পড়েছে।
পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা ও খুলনা রেঞ্জের কদমতলা, হরিনগর, নীলডুমুর, কৈখালী ও কয়রা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সুন্দরবনের সীমানা ঘেঁষে বয়ে যাওয়া খোলপেটুয়া, কপোতাক্ষ, মালঞ্চ, চুনকুড়ি, শাকবাড়িয়া ও শিবসা নদী এখন প্লাস্টিকের বোতল ও চিপসের প্যাকেটে সয়লাব।
কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের জেলে আইয়ুব আলী ও দাতিনাখালীর বাচ্চু হোসেন জানান, আগে নদীতে জাল ফেললেই যেখানে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত, এখন সেখানে জালের ভেতর উঠে আসে চিপসের প্যাকেট, পানির বোতল আর ওয়ান-টাইম কাপ। শিবসা নদী থেকে ধরা পড়া ৭ কেজি ওজনের একটি ভেটকি মাছের পেটেও মিলেছে পলিথিন।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকট ও সহজলভ্যতা
উপকূলীয় এলাকার বাজারগুলোতে (যেমন- বুড়িগোয়ালিনী বা নওয়াবেঁকী) কোনো ডাম্পিং স্টেশন বা ডাস্টবিন নেই। ব্যবহার শেষে ওয়ান-টাইম থালা-বাসন সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, করোনার পর থেকে সস্তা ও ধোয়ার ঝামেলামুক্ত হওয়ায় ওয়ান-টাইম প্লাস্টিকের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। অন্যদিকে, পর্যটন ট্রলার বা ঘাটে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও অনেকে প্লাস্টিক বনেই ফেলছেন।
সুন্দরবনকে প্লাস্টিকমুক্ত রাখতে বন বিভাগ নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করছে। কটকা, কচিখালী, ডিমের চরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বস্তা বস্তা বর্জ্য উদ্ধার করা হয়েছে।
