
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা চরম সংকটে পড়েছেন। শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জের বহু জমি এখন অনাবাদি। বীজ বোনার পর চারা উঠলেও লবণের তীব্রতায় তা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তন, ঘূর্ণিঝড়, নদী ভাঙন এবং মিষ্টি পানির প্রবাহের অভাবে মাটিতে লবণের স্তর দিন দিন বেড়ে চলছে। স্থানীয় কৃষকরা ফসল হারিয়ে অন্য পেশায় ঝুঁকছেন, নারীরা কর্মসংস্থান হারিয়ে ঋণের জালে পড়ছেন।
সাতক্ষীরা জেলা পরিসংখ্যান অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলার কৃষি খানা বেড়েছে, কিন্তু আবাদযোগ্য জমি কমেছে। একদিকে লবণ সহনশীল ধান ও সবজি চাষের চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তার অভাবে সাফল্য সীমিত।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্ষার পর লবণ ধুয়ে গেলে কিছুটা ফসল চাষ সম্ভব, তবে লবণাক্ততার প্রকৃত সমাধানের জন্য অঞ্চলভিত্তিক বাঁধ, ড্রেনেজ ও নতুন জাতের উদ্ভাবন জরুরি।
স্থানীয়রা বলছেন, লবণাক্ততার কারণে গ্রামীণ সমাজে ‘জলবায়ু অভ্যন্তরীণ অভিবাসন’ শুরু হয়েছে। পুরুষরা শহরে কাজের খোঁজে যাচ্ছেন, নারীরা ও শিশুদের ওপর সংকটের বোঝা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, যদি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, আগামী ৫–১০ বছরে সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি চাষযোগ্য থাকবে না।
