

নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুর জেলায় সয়াল্যান্ড খ্যাত এ মৌসুমে সয়াবিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবার আশাবাদ ব্যক্ত করছেন কৃষক ও স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
২০২৪ সালে লক্ষ্মীপুর জেলায় ৪২ হাজার ৫'শ ২৫ হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। এতে চলতি মৌসুমে তেলবীজটির উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৮০ হাজার ৭'শ ৯৮ টন। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদনের পরিমাণ পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলোচ্ছ্বাস ও অতিবৃষ্টির কারণে ফসলহানি ঘটে। তবে ২০২২-২৩ বিপণন বছরে সয়াবিনের ভালো ফলন হয়েছে। গত মৌসুমে ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় এবারো সয়াবিন আবাদে আগ্রহী হয়েছেন অনেক চাষিরা।
বিদায়ী মৌসুমে ৬'শ কোটি টাকার বেশি সয়াবিনে বাণিজ্য করেছেন চাষিরা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তেলবীজটির উৎপাদন আরো বাড়াতে কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে কাজ করে চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, বছরে ২ বার সয়াবিন উৎপাদন করেন লক্ষ্মীপুর জেলার কৃষকরা। প্রথমবার আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি সয়াবিন বীজ আবাদ করা হয়, যা খরিপ-২ মৌসুম নামে পরিচিত। দ্বিতীয়বার পৌষ মাসের মাঝামাঝি থেকে মাঘ মাসের শুরুর দিকে কৃষকরা রবিশস্য হিসেবে সয়াবিনের আবাদ করেন। উৎপাদিত সয়াবিন বীজসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরিতে ব্যবহার হয়। লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার টুনুর চর, চর ঘাষিয়া, চর কাচিয়া, কানিবগার চরে সয়াবিন বীজ উৎপাদন করা হয়। এখানকার বীজ উন্নত মানের হওয়ায় অন্যান্য জেলার কৃষকরাও এখানে বীজ কিনতে আসেন।
খরিপ-২ মৌসুমে প্রায় ৪ হাজার টন সয়াবিন বীজ উৎপাদন হয়, যার টনপ্রতি আনুমানিক বাজার মূল্য ২ লাখ টাকা। এ হিসাবে ৪ হাজার টন সয়াবিন বীজ থেকে স্থানীয় বাজারেই লেনদেন হয় প্রায় ৮০ কোটি টাকা। আর রবি মৌসুমে প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষ করা হয়। এ মৌসুমে প্রতি মনে ২ হাজার ৫'শ থেকে ৩ হাজার টাকা পান কৃষকরা। এই জেলাজুড়ে সয়াবিন লেনদেন হয় প্রায় ৬'শ কোটি টাকার।
লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর হাজিরহাট এলাকার সয়াবিন চাষি নুর উদ্দিন বলেন, ‘সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া’ নামে একটি সংস্থার সহায়তায় ‘নারিশ’, ‘আফতাব’ ও ‘এগ্রিগেইট’সহ বিভিন্ন ফিডস মিল কোম্পানি খেত থেকেই উৎপাদিত আগাম কিনে নেয়। এ কারণে আমরা ভালো দাম পাচ্ছি। আর বঙ্গবন্ধু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কয়েকজন গবেষক মাঠ পর্যায়ে উন্নত জাতের বিইউ-২, ৩, ৪ জাতের সয়াবিন বীজ বিনামূল্যে সরবরাহ করেছে। তাছাড়া কৃষি কর্মকর্তারা আমাদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিচ্ছেন।’
তিনি আরও জানান, ধান কাটার পর পরই সয়াবিন চাষের জন্য ক্ষেত তৈরি করবেন। এ জন্য তারা সব ধরনের প্রস্তুতিও নিয়েছেন।
১৯৮২ সালে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার হায়দারগঞ্জে প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে সয়াবিনের চাষ করে মেনোনাইট সেন্ট্রাল কমিটি (এমসিসি) নামে একটি সংস্থা। উৎপাদন উপযোগী উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ায় প্রথমবারেই উৎপাদনে বেশ সাফল্য আসে। দেশে মোট উৎপাদিত সয়াবিনের ৮০ শতাংশই আসে লক্ষ্মীপুর জেলা থেকে। উৎপাদিত সয়াবিন পোলট্রি খাদ্য, ফিশ ফিড, সয়া নাগেট, সয়াবিস্কুট, সয়ামিট, সাবান, সয়াদুধ, শিশু খাদ্যসহ ৬১টি ধরনের পুষ্টিকর খাদ্য ও পণ্য তৈরিতে ব্যবহার হয় বলে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়।
প্রধান কার্যালয়ঃ মহা সি.এন.জি ভবন সংলগ্ন (৪র্থ তলা), ঢাকা- ময়মনসিংহ রোড, মাওনা চৌরাস্তা, শ্রীপুর, গাজীপুর।
মোবাইলঃ ০১৫৩১-১৭২৭৫০ , ইমেইলঃ dbhorerpatrika.com
ওয়েবসাইটঃ www.bhorerpatrika.com বিজ্ঞাপনঃ ০১৩০৫-৯৫০৬২৫ ইমেইলঃ info@bhorerpatrika.com