
লক্ষ্মীপুরে সালেহা বেগম নামের এক বৃদ্ধা নারীকে হত্যার মামলায় আবু বকর ছিদ্দিক নামের এক জামায়াত নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন।
আবু বকর ছিদ্দিক কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়ন জামায়াতের রুকন। তিনি ওই ইউনিয়নের চর সামছুদ্দিন গ্রামের বাসিন্দা।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে লক্ষ্মীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার, তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও আদালতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সালেহা বেগমকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় আবু বকর ছিদ্দিক চার্জশিটভুক্ত আসামি। মামলার আরেক আসামি সেলিমকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে আবু বকরের সংশ্লিষ্টতার কথা উঠে আসে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
২০২৫ সালের ১৬ জুন কমলনগর উপজেলার মতিরহাটসংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে নুনু সর্দারের পরিত্যক্ত ভিটা থেকে সালেহা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগের রাতে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে মামলার তদন্তে উঠে আসে। এ ঘটনায় সালেহার মেয়ে ফাতেমা বেগম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে কমলনগর থানায় মামলা করেন।
পুলিশের তদন্তে সেলিম নামের এক ব্যক্তির নাম উঠে আসে। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেলিমের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সালেহা বেগমের সঙ্গে আবু বকর ছিদ্দিকের গোপনে বিয়ে হয়েছিল। জমি কেনার কথা বলে সালেহার কাছ থেকে আবু বকর ৩০ লাখ টাকা নেন। পরে জমি কিনে না দিয়ে আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করা নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এরপর ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে সালেহাকে হত্যার জন্য আবু বকর তাঁকে ভাড়া করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন সেলিম।
জবানবন্দিতে সেলিম আরও বলেন, সালেহাকে নির্জন স্থানে নিয়ে গলা টিপে অচেতন করার পর ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর কাছে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
পুলিশের তদন্ত শেষে সেলিম ও আবু বকর ছিদ্দিককে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। সেলিম কারাগারে থাকলেও আবু বকর পলাতক ছিলেন। পরে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আমজাদ হোসাইন বলেন, ‘চার্জশিটভুক্ত দ্বিতীয় আসামি আবু বকর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন। আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।’
নিহত সালেহা বেগমের ছেলে শরীফ উদ্দিন ও আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তাঁদের মায়ের সঙ্গে আবু বকর ছিদ্দিকের গোপনে বিয়ে হয়েছিল। পরে তাঁদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। অর্থের লোভে তাঁদের মাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন। তাঁরা এ মামলায় ন্যায়বিচার দাবি করেন।
তবে মামলার অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
প্রধান কার্যালয়ঃ মহা সি.এন.জি ভবন সংলগ্ন (৪র্থ তলা), ঢাকা- ময়মনসিংহ রোড, মাওনা চৌরাস্তা, শ্রীপুর, গাজীপুর।
মোবাইলঃ ০১৫৩১-১৭২৭৫০ , ইমেইলঃ dbhorerpatrika.com
ওয়েবসাইটঃ www.bhorerpatrika.com বিজ্ঞাপনঃ ০১৩০৫-৯৫০৬২৫ ইমেইলঃ info@bhorerpatrika.com