
নাজমুল হোসেন : লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতালে দিন দিন বাড়ছে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। গত তিন মাসে জেলায় হাম উপসর্গ নিয়ে ৩৯ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় চারজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশু ভর্তি হয়েছে।
শনিবার এসব তথ্য জানান লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন ডা. আবু হাসান শহীন।
তিনি বলেন, ভর্তি হওয়া ৩৯ জনের নমুনা পরীক্ষার পর চারজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দুই শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন রয়েছে ১২ শিশু। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেখানে ১০ শয্যার একটি আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। কোনো শিশুর পাঁচ থেকে সাত দিন জ্বর থাকা, শরীরে চুলকানি, ঘন ঘন কাশি ও বমিভাব দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সাধারণত চার মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে থাকলেও বড় শিশুরাও আক্রান্ত হতে পারে।
সদর উপজেলার লাহারকান্দি ইউনিয়নের বাসিন্দা সেলিনা জাহান জানান, তাঁর সন্তান কয়েকদিন ধরে জ্বর, কাশি, চুলকানি ও বমিতে ভুগছিল। অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
একইভাবে টুমচর এলাকা থেকে আসা এক মা তার ১০ মাস বয়সী শিশুকে একই উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। কালিরচর এলাকার আমেনা বেগম বলেন, প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিলেও শিশুর অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জানা যায়, সে হাম রোগে আক্রান্ত।
শিশু বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. মোরশেদ আলম হিরু বলেন, বর্তমানে জেলায় হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ভর্তি হওয়া রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরূপ পাল বলেন, যেসব শিশু হাম প্রতিরোধের টিকা নেয়নি, তারাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তবে সময়মতো চিকিৎসা ও সঠিক যত্ন নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগ থেকে সুস্থ হওয়া সম্ভব।
চিকিৎসকেরা শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
প্রধান কার্যালয়ঃ মহা সি.এন.জি ভবন সংলগ্ন (৪র্থ তলা), ঢাকা- ময়মনসিংহ রোড, মাওনা চৌরাস্তা, শ্রীপুর, গাজীপুর।
মোবাইলঃ ০১৫৩১-১৭২৭৫০ , ইমেইলঃ dbhorerpatrika.com
ওয়েবসাইটঃ www.bhorerpatrika.com বিজ্ঞাপনঃ ০১৩০৫-৯৫০৬২৫ ইমেইলঃ info@bhorerpatrika.com