
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কুশাখালী এলাকায় সংঘটিত একটি দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মালামালের একটি বড় অংশ—প্রায় ২৬ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার ও ৩ লাখ ৫ হাজার টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ডাকাতিতে সরাসরি অংশ নেওয়া দুজন এবং লুণ্ঠিত সোনা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত তিন স্বর্ণ ব্যবসায়ী রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, গত ৯ মার্চ দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে চন্দ্রগঞ্জ থানার কুশাখালী ইউনিয়নের একটি একতলা বাড়িতে ৭ থেকে ৮ জনের একটি ডাকাত দল হানা দেয়। এ সময় ডাকাতরা গৃহকর্তাকে জিম্মি করে ঘরে থাকা প্রায় ২৯ ভরি ৬ আনা স্বর্ণালঙ্কার, নগদ এক লাখ টাকা এবং একটি মুঠোফোন লুট করে নিয়ে যায়। লুণ্ঠিত মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৫৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকা।
ঘটনার পরদিন চন্দ্রগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হলে তদন্তে নামে পুলিশ। লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে ডাকাতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত মো. খোরশেদ আলম (৪০) ও শাহাদাত হোসেন মোহন (২৭)কে গ্রেপ্তার করা হয়। খোরশেদের বাড়ি থেকে ৩ লাখ টাকা নগদ ও ২ ভরি ১০ আনা সোনা এবং মোহনের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত সোনা কেনাবেচার অভিযোগে তিন স্বর্ণ ব্যবসায়ী—শুভ কর্মকার (৩০), অরূপ রায় (৩০) ও স্বরূপ রায় (২৬)কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের দোকান থেকে আরও প্রায় ৭ ভরি সোনা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, অভিযানে সর্বমোট ১০ ভরি ৫ আনা ৩ রতি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ২৬ লাখ টাকা।
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী (পিপিএম-সেবা) স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
