
নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপি নেতা আবুল কালাম জহিরকে (৫০) কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী আইরিন আক্তার বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় এ মামলা করেন। মামলায় ছাত্রদল কর্মী কাউছার মানিক বাদলসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রোববার ভোরে আটক ইমন হোসেন (২১), আলমগীর হোসেন (৪০) ও হুমায়ুন কবির সেলিমকে (৫০) মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। তাদের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফয়জুল আজীম।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী চক্র পরিকল্পিতভাবে জহিরকে হত্যা করে। সম্ভাব্য হামলা ও হুমকির বিষয়ে জহির মৃত্যুর আগে একটি ভিডিও করে স্ত্রী আইরিনকে পাঠিয়েছিলেন। ভয়ভীতি ও চাপের কারণে ঘটনার পরপরই নিহতের প্রথম স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা মামলা করতে সাহস পাননি।
আসামিদের মধ্যে কাউছার মানিক বাদল ছাড়াও রয়েছেন— খোরশেদ আলম, মিজানুর রহমান মল্লিক, শামসুল আলম মল্লিক, শাহ আলম, রাহাত হোসেন বাবু, স্বপন, রিয়াজ ওরফে চিতা, আজিম হোসেন হারুন ও আব্দুল খালেক। তারা চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্র বলছে, কাউছার একাধিক মামলার পলাতক আসামি। অপর আসামি আবুল কালামের বিরুদ্ধেও মাদকসহ সাতটি মামলা রয়েছে।
শনিবার রাত আটটা থেকে সাড়ে আটটার মধ্যে পশ্চিম লতিফপুরের ফারুকের বাড়ির সামনে ওত পেতে থাকা ব্যক্তিরা জহিরের ওপর হামলা করে। গলার ডান পাশে, বুক ও বুকের নিচে চারটি গুলি করা হয়। পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, বিএনপি নেতা জহির ও ছাত্রদল কর্মী কাউছারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল। সাম্প্রতিক এক খেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এর জের ধরেই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওসি ফয়জুল আজীম বলেন, “নিহতের স্ত্রী মামলা করেছেন। তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে।” তিনি আরও জানান, মামলায় উল্লেখ করা ভিডিওটি এখনো পুলিশের হাতে আসেনি।
