
মো. ওমর ফারুক, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) : লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর শহরে দিন দিন বাড়ছে অনুমতিহীন অটোরিকশার চলাচল। শহরের প্রধান সড়ক, পীর ফয়জুল্লাহ সড়ক, মীরগঞ্জ সড়ক ও হায়দরগঞ্জ সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়কে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে অটোরিকশা চলাচলের কারণে প্রায়ই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, অফিসগামী মানুষ ও দূরপাল্লার যাত্রীরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শহরে চলাচলকারী অটোরিকশার একটি বড় অংশের বৈধ নিবন্ধন বা প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই। অনেক চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকার অভিযোগও রয়েছে। এর পাশাপাশি প্রশিক্ষণবিহীন, অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অনভিজ্ঞ চালকদের বেপরোয়া চলাচলে সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
শহরের বিভিন্ন সড়কে অটোরিকশার যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, সড়কের মাঝখানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী তোলা, উল্টো পথে চলাচল এবং যেখানে-সেখানে পার্কিংয়ের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলেও বাধার সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
কয়েক মিনিটের পথ পাড়ি দিতে আধা ঘণ্টা
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রায়পুর শহরের বিভিন্ন সড়কে যানজট এখন প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা। কয়েক মিনিটের পথ পাড়ি দিতে কখনো কখনো আধা ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়। বিশেষ করে অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুরু ও ছুটির সময়ে যানজট আরও তীব্র হয়।
পথচারীদের অভিযোগ, অনেক অটোরিকশা বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। আবার কোনো ধরনের পূর্বসংকেত ছাড়াই হঠাৎ সড়কের মাঝখানে থেমে যাত্রী ওঠানামা করায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। এতে শিশু, নারী ও বয়স্কদের সড়ক পারাপারেও ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে অনুমতিহীন যানবাহন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি চালকদের লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি প্রয়োজন।
ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রভাব
যানজটের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকার কারণে অনেক ক্রেতা শহরের বাজারে আসতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। পাশাপাশি পণ্যবাহী যানবাহন সময়মতো দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে না পারায় ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা শহরে অটোরিকশার জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড স্থাপন, অনুমতিহীন যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযান চালানোর কথা প্রশাসনের
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, রায়পুর শহরের যানজট নিরসন ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ট্রাফিক আইন অমান্যকারী এবং অনুমতিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শুধু মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করে রায়পুর শহরের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বৈধ নিবন্ধন ছাড়া যানবাহন চলাচল বন্ধ করা, চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স নিশ্চিত করা, নির্ধারিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড স্থাপন এবং কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে রায়পুর শহরের যানজট পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। একই সঙ্গে বাড়তে পারে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি। জনদুর্ভোগ কমাতে তাই স্থায়ী ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
