
মোঃ আল এমরান, রায়পুর উপজেলা প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের রায়পুর বণিক সমিতির নির্বাচন নিয়ে একটি রীটের প্রেক্ষিতে রুল জারি করে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছেন উচ্চ আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) বেলা ৩.৩০মিনিট আদালতের বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও আইনুন নাহার সিদ্দিকার দ্বৈত বেঞ্চ ৪ সপ্তাহের জন্য এ স্থগিতাদেশ দেন। এসময় রুলের জবাব দিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেজিষ্টার আরজিইসি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রীটকারী মো. আবদুল মজিদের আইনজীবী মো. তাওসীব হোসাইন। আগামি শনিবার (২৮ জুন) এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা ।
সূপ্রীম কোর্টের আইনজীবী তাহসীব হোসাইন জানান-বাণিজ্য সংগঠন অধ্যাদেশের ১৯৬১ এর ৩ ধারায় উল্লেখ রয়েছে একই এলাকায় ব্যবসায়ীদের রেজিষ্ট্রেশনভূক্ত দুইটি সংগঠন থাকতে পারবে না।
এছাড়া রেজিষ্ট্রেশন ছাড়া ব্যবসায়ীদের কোন
সংগঠন পরিচালনা করা যাবে না। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে রায়পুর বণিক সমিতির নামে ইউএনওসহ স্থানীয় প্রশাসন নির্বাচনের আয়োজন করে সকল প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেন। এতে আবদুল মজিদ চৌধুরীর দায়ের করা রীটের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত ৪ সপ্তাহের রুল জারি এবং নির্বাচন স্থগিত করার আদেশ দেয়।
এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও বণিক সমিতির নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মো. মাজেদুল ইসলাম বলেন, লোকমুখে নির্বাচনের স্থগিতের বিষয়টি শুনছি। তবে এখন পর্যন্ত আমার হাতে আদালতের আদেশের কপি আসেনি। হাত পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবং আমাদের হাতে আদালতের আদেশ না আসা পর্যন্ত আগামী ২৮ তারিখ নির্ধারিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে কোন বাঁধা নেই। উক্ত বিষয়ে রায়পুর পৌরসভার প্রসাশক ও ইউ এন ও রিটার্নিং অফিসার – কৃষি কর্মকর্তা যৌথ বিবৃতিতে একই মন্তব্য করেন।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি রায়পুর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচন করার লক্ষ্যে ১৬২৫ জন ব্যবসায়ীকে ভোটার করা হয়। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৬টি পদ ৫৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা দিনরাত ঘাঁটাঘাঁটি করে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ভোটারদের দ্বারে-দ্বারে প্রচার-প্রচারণা করছেন। আগামী শনিবার মার্চ্চেন্টস একাডেমীর মাঠে এ ভোট নেওয়ার জন্য সবপ্রস্ততি নিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন।
সন্ধ্যার পর সোস্যাল মিডিয়ায় রায়পুর বণিক সমিতির নির্বাচন স্থগিতের আদেশ কপি ভাইরাল হওয়া উক্ত বিষয়টি টক অফ দ্যা রায়পুর সিটিতে পরিনত হয় ।
অপরদিকে নির্বাচনের স্থগিতের বিষয়ে লোকাল প্রসাশন কোন আপডেট বা নোটিশ না দেওয়ার শহর ঘুরে দেখা যায় প্রার্থীগন তাদের নিজ নিজ প্রতিকের পক্ষে প্রচারণা ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গিয়েছে।
