রায়পুরে অবৈধ অটোরিকশা ও ইজিবাইক গিলে খাচ্ছে বিদ্যুৎ 

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৮ মাস আগে

মো. ওমর ফারুক, জেলা প্রতিনিধ: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার অনিবন্ধিত ও অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক রাস্তায় চলাচল করছে, যাদের নিয়ন্ত্রণে কোনো সরকারি উদ্যোগ নেই। এসব যানবাহন নিজস্ব নিয়মে চলছে এবং চালকদের বেশিরভাগই অদক্ষ, মাদকাসক্ত এবং অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, এ সব যানবাহনগুলো অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে ব্যাটারি চার্জ করছে, যার ফলে প্রচুর বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে এবং লোডশেডিংয়ের সমস্যাও বাড়ছে।

প্রতিদিন একটি অটোরিকশা গড়ে ১০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে। এতে করে ৫ হাজার অটোরিকশা ও ইজিবাইক প্রায় ৫০ হাজার কিলোওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে। এই বিদ্যুৎ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অবৈধ লাইন ব্যবহার করে নেওয়া হচ্ছে, ফলে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। এক্ষেত্রে অটোরিকশা ও ইজিবাইক চলাচলে বিদ্যুৎ লাইনগুলোতে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

অটোরিকশা ও ইজিবাইকের চালকদের বেশিরভাগই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নয় এবং তাদের কাছে লাইসেন্সও নেই। সড়কে চলাচলকারী এই অবৈধ যানগুলোর চালকরা মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যার ফলে আহত ও নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়া, এসব যানবাহন দু’জন বসার জায়গার জন্য ৫-৬ জন যাত্রী বহন করছে, যা সড়কে যানজট সৃষ্টি করছে এবং যাত্রীদের জন্য একটি বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

এছাড়াও, এসব চালকরা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, যেমন চুরি, ছিনতাই এবং মাদক বহন। সরকার কর্তৃক এই অটোরিকশাগুলোর নিবন্ধন না হওয়ার কারণে বিপুল পরিমাণ রাজস্বও হারাচ্ছে।

প্রতিবছর লক্ষ্মীপুর জেলা থেকে বিদেশি অটোরিকশা ও ইজিবাইক আমদানি হলেও, দেশে এসে তা অবৈধভাবে চলাচল শুরু করে। এর ফলে চালকরা প্রশিক্ষণহীন এবং যানবাহনগুলো রেজিস্ট্রেশনহীন অবস্থায় সড়কে চলাচল করছে, যা জনগণের জন্য নিরাপদ নয়।

জেলা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জানান, “অটোরিকশা ও ইজিবাইক সড়কে সম্পূর্ণ অবৈধ যান। এগুলোর চালকের কোন লাইসেন্স বা প্রশিক্ষণ নেই। এসব যানগুলো সড়কে মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে এবং যানজটের পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তাও বিপন্ন করছে।” তিনি বলেন, এসব অবৈধ যান বন্ধ করা প্রয়োজন।

জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার শফিউল আলম বলেন, “প্রতি বছর এসব অটোরিকশা ও ইজিবাইকে ১ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার হলে, সারাদেশে কত কোটি টাকার বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে তা ভাবতেও কষ্ট হয়। যদি এসব অবৈধ যান বন্ধ করা যায়, তাহলে বিদ্যুৎ অপচয়ও কমবে এবং লোডশেডিং এর সমস্যা অনেকাংশে সমাধান হবে।”

এভাবে অবৈধ অটোরিকশা ও ইজিবাইকগুলোর বিদ্যুৎ অপচয় ও ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল রায়পুরসহ পুরো লক্ষ্মীপুর জেলায় ব্যাপক সমস্যা সৃষ্টি করছে, যা এখনই সমাধান করতে না পারলে এটি আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।