
মো. তৌফিকুল হক, রায়পুরা (নরসিংদী) : গ্রামের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত, সহজ ও স্বল্প খরচে বিচারসেবা পৌঁছে দিতে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা।
তাঁরা বলেছেন, গ্রাম আদালত কার্যকরভাবে পরিচালিত হলে স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি সামাজিক অপরাধও অনেকাংশে কমে আসবে।
‘অল্প সময়, স্বল্প খরচে সঠিক বিচার’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে নরসিংদীর রায়পুরায় গ্রাম আদালত বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
গতকাল সকাল ১০টায় রায়পুরা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা।
কর্মশালার শুরুতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, প্রয়োজনীয়তা, বিচারিক ক্ষমতা ও এর ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তিতে গ্রাম আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এতে আদালতের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ কম সময় ও খরচে ন্যায়বিচার পাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, গ্রাম আদালত সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ কার্যক্রম আরও কার্যকর করা সম্ভব।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, সমাজে মাদক, কিশোর গ্যাং, চুরি-ডাকাতি ও পারিবারিক বিরোধের মতো নানা সমস্যা স্থানীয়ভাবে সমাধানের ক্ষেত্রে গ্রাম আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিচারপ্রার্থী মানুষের আস্থা অর্জনে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার ওপরও গুরুত্ব দেন তাঁরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ খলিলুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, মো. বোরহান উদ্দিন, গ্রাম আদালতের উপজেলা কো-অর্ডিনেটর মনি আক্তার, গোবিন্দ্র চন্দ্র সরকার, রায়পুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদ উদ্দিন, রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ তৌফিকুল হক, সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি হারুনুর রশিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
কর্মশালায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা গ্রাম আদালতকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
