
আলামিন, রংপুর প্রতিনিধি : রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় রেক্টিফাইড স্পিরিট পানজনিত মৃত্যুর ঘটনায় আজাদ হোমিও হলের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। প্রাথমিক তদন্ত ও তথ্য যাচাই শেষে অধিদপ্তর বলছে, ঘটনাটি অবৈধভাবে সংগৃহীত রেক্টিফাইড স্পিরিট পান করার ফল।
মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, রংপুর কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু জাফর আজ (তারিখ) প্রথম আলোকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের একটি পয়েন্ট থেকে গাজীপুর থেকে রংপুরে পাঠানো ১০০ মিলিলিটার ধারণক্ষমতার ১৪৪ বোতল রেক্টিফাইড স্পিরিট জব্দ করা হয়েছে। বোতলগুলো ‘মতিন’ নাম ব্যবহার করে বুকিং দেওয়া হলেও তদন্তে দেখা গেছে, ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি জয়নুল নামের এক রেক্টিফাইড স্পিরিট সরবরাহকারীর স্ত্রীর নামে নিবন্ধিত।
আবু জাফর বলেন, জব্দ করা বোতলগুলোর বক্সের সঙ্গে জয়নুলের বাসা থেকে উদ্ধার করা বক্সের মিল পাওয়া গেছে। এসব স্পিরিট সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছালে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারত বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
মাদক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আরও বলেন, রেক্টিফাইড স্পিরিট মূলত শিল্প ও রাসায়নিক কাজে ব্যবহৃত অ্যালকোহল। এটি পান করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রাণঘাতী। এ ঘটনায় কোনো বৈধ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান বা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তিনি জানান, ঘটনার পর আজাদ হোমিও হলে অধিদপ্তরের একটি দল সরেজমিন তদন্ত ও তল্লাশি চালায়। সেখানে কোনো অবৈধ কার্যক্রম বা রেক্টিফাইড স্পিরিট সংরক্ষণ বা সরবরাহের আলামত পাওয়া যায়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে ছড়ানো তথ্যগুলো ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মৃত ব্যক্তির পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি অবৈধভাবে সংগ্রহ করা স্পিরিট পান করেছিলেন। এখন পর্যন্ত কোনো চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান বা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
ওসি আরও বলেন, অবৈধ মাদক সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
প্রশাসন ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সংশ্লিষ্টরা গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি রেক্টিফাইড স্পিরিটসহ যেকোনো ধরনের অবৈধ মাদক সেবনের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।
