
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, কল্যাণপুর, মিরপুর ও তেজগাঁওসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় বুধবার রাত থেকে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। মাটির নিচের পাইপলাইনে বড় ধরনের লিকেজ শনাক্তের পর মেরামত কাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ে তা শেষ না হওয়ায় লাখো মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার রাত থেকে মিরপুর রোডের দারুসসালাম মেইন রোড এলাকায় ১২ ইঞ্চি ব্যাসের ৫০ পিএসআইজি চাপের একটি বিতরণ লাইনে লিকেজ ধরা পড়ে। লিকেজের মাত্রা বেশি হওয়ায় দ্রুত মেরামত শুরু করা হলেও কাজ জটিল হয়ে পড়ে।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত কয়েকটি ভাল্ব বন্ধ করতে হয়। এতে আগাম পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় হঠাৎ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ বাসিন্দারা। মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা রাশেদা আক্তার বলেন, “সকালে আমার ছেলে না খেয়েই পরীক্ষায় গেছে। রাত থেকে চুলায় আগুন জ্বলছে না।”
শ্যামলীর মাহবুব আলম বলেন, “ভোর থেকে বাইরে খাবার খুঁজেছি, কিন্তু দোকানপাট দেরিতে খোলায় কিছুই পাইনি।”
কল্যাণপুরের গৃহিণী সালমা বেগম জানান, গ্যাস না থাকায় পরিবারের ছোট শিশুদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি। বাধ্য হয়ে শুকনো খাবার খেয়ে থাকতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত থেকে রান্না বন্ধ থাকায় অনেকেই বাইরে খাবারের জন্য বের হলেও অধিকাংশ হোটেল-রেস্তোরাঁ দেরিতে চালু হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এদিকে কল্যাণপুর এলাকায় বুধবার রাত থেকেই মেরামত কাজ চললেও বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। এতে কর্মজীবী মানুষের মধ্যে ক্ষোভও বাড়ছে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেরামত কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে দীর্ঘ সময় গ্যাস না থাকায় নগরবাসীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয়রা এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে স্থায়ী সমাধান ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে হঠাৎ করে সাধারণ মানুষকে এমন ভোগান্তিতে না পড়তে হয়।
প্রধান কার্যালয়ঃ মহা সি.এন.জি ভবন সংলগ্ন (৪র্থ তলা), ঢাকা- ময়মনসিংহ রোড, মাওনা চৌরাস্তা, শ্রীপুর, গাজীপুর।
মোবাইলঃ ০১৫৩১-১৭২৭৫০ , ইমেইলঃ dbhorerpatrika.com
ওয়েবসাইটঃ www.bhorerpatrika.com বিজ্ঞাপনঃ ০১৩০৫-৯৫০৬২৫ ইমেইলঃ info@bhorerpatrika.com