
সিরাজুল ইসলাম : মে দিবস বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের প্রতীক হলেও বাস্তবে এখনও অনেক শ্রমিক, বিশেষ করে নারী শ্রমিকরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে এই বৈষম্য আরও প্রকট।
নারী শ্রমিকরা কৃষি, গার্মেন্টস, ইটভাটা, হোটেল, চাতাল, নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে পুরুষদের পাশাপাশি কাজ করলেও তাদের মজুরি অনেক কম। একই কাজের জন্য যেখানে পুরুষ শ্রমিক ৫০০–৬০০ টাকা পান, সেখানে নারী শ্রমিকরা পান ৩০০–৩৫০ টাকা। এ ছাড়া কাজের নিরাপত্তা, ছুটি, মাতৃত্বকালীন সুবিধা ও কর্মপরিবেশেও তারা পিছিয়ে।
শ্রমক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের আরেকটি বড় সমস্যা হলো যৌন হয়রানি ও নিরাপত্তাহীনতা। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় তারা নীরব থাকতে বাধ্য হন। গৃহকর্মী ও প্রবাসী নারী শ্রমিকরা আরও বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈষম্যের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে—
শ্রমবাজারে দুর্বল আইন প্রয়োগ
মালিকপক্ষের মুনাফাকেন্দ্রিক মনোভাব
নারীর কাজকে “কম মূল্যবান” হিসেবে দেখার সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি
সংগঠিত শ্রমিক আন্দোলনের দুর্বলতা
জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক চাপ ও কাজের অনিরাপদ পরিবেশও নারী শ্রমিকদের অবস্থাকে আরও নাজুক করে তুলছে।
তবে আশার দিক হলো—বাংলাদেশে শ্রম আইন, আইএলও নীতিমালা এবং বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সচেতনতা বাড়ছে। তবুও বাস্তব পরিবর্তন এখনও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
মে দিবস কেবল ইতিহাস স্মরণের দিন নয়; এটি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়নের অঙ্গীকারের দিন। কিন্তু বাস্তবতা বলছে—নারী শ্রমিকদের জন্য সেই অঙ্গীকার এখনো পূর্ণ হয়নি। প্রকৃত সমতা প্রতিষ্ঠা ছাড়া মে দিবসের চেতনা সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
প্রধান কার্যালয়ঃ মহা সি.এন.জি ভবন সংলগ্ন (৪র্থ তলা), ঢাকা- ময়মনসিংহ রোড, মাওনা চৌরাস্তা, শ্রীপুর, গাজীপুর।
মোবাইলঃ ০১৫৩১-১৭২৭৫০ , ইমেইলঃ dbhorerpatrika.com
ওয়েবসাইটঃ www.bhorerpatrika.com বিজ্ঞাপনঃ ০১৩০৫-৯৫০৬২৫ ইমেইলঃ info@bhorerpatrika.com