

নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগরে মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনরোধে নেওয়া ৩১ শ’ কোটি টাকার বাঁধ প্রকল্পের ধীরগতির প্রতিবাদে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় কাদির পণ্ডিতেরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ সমাবেশ হয়। সমাবেশের ব্যানারে কোনো আয়োজক কমিটির নাম উল্লেখ না থাকলেও স্থানীয় সূত্র বলছে, এটি আয়োজন করেছেন বিএনপি নেতা এডভোকেট আমজাদ হোসেন ও চরলরেন্স জামায়াতের সভাপতি ছাইয়েদ আনোয়ার হোসেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সাংসদ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান। বিশেষ অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও লক্ষ্মীপুর–৪ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী এ আর হাফিজ উল্যাহ।
তবে জোটের প্রার্থী মিসেস তানিয়া রব এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ সমাবেশে ছিলেন না।
দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা ভাঙনরোধ আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত অনেককে সমাবেশে না ডাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই এটি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি সভা হিসেবে দেখছেন।
সংগঠক দাবি করা চরলরেন্স ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি ছাইয়েদ আনোয়ার হোসেন বলেন, “স্থানীয় বিএনপি নেতা এড. আমজাদ হোসেন এ প্রোগ্রামের আয়োজন করেছেন। সাবেক এমপি হওয়ায় নিজান সাহেবকে প্রধান অতিথি করা হয়েছে।”
সমাবেশের সভাপতি মাওলানা গিয়াস উদ্দিন বলেন, তাঁকে সভাপতি ঘোষণা করা হলেও অনুষ্ঠান আয়োজন সম্পর্কে তিনি তেমন জানেন না।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী খালেদ সাইফুল্লাহর প্রতিনিধি মুফতি শরীফুল ইসলাম জানান, আয়োজকরা আগে বলেছিলেন কোনো প্রধান বা বিশেষ অতিথি থাকবে না—সবাই নদীভাঙন নিয়ে আলোচনা করবেন। “কিন্তুএসে ভিন্ন চিত্র দেখে আমাদের প্রার্থী উপস্থিত হননি,” বলেন তিনি।
উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল খায়ের বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ভাঙনরোধ আন্দোলনে যারা ছিলেন, তাঁদের কাউকে ডাকা হয়নি। ছাত্রদলের ছেলেরা বক্তব্য দেওয়ায় অনেকে কথা বলতেও পারেননি।”
রামগতি ও কমলনগরে মেঘনার ভাঙন বহু দশকের। ১৯৮৮ সালে বিরোধীদলীয় নেতা আ স ম আবদুর রব পরীক্ষামূলকভাবে মতিরহাট ও রামগতি বাজারে ব্লক বাঁধ নির্মাণ করেন, যা আজও টিকে আছে। পরে ১৯৯৬ সালে নৌপরিবহনমন্ত্রী থাকা অবস্থায় তিনি নদী ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেন। তিন দিনের কাজের পর রাজনৈতিক বিরোধে তা বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরপর স্থানীয় পর্যায়ে ভাঙন প্রতিরোধে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১২ সালে সাবেক সাংসদ আশরাফ উদ্দিন নিজানের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাশ্রম ও স্থানীয় সহযোগিতায় বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা হলেও অর্থসংকটে তা থেমে যায়। ২০১৫ সালে গঠিত ‘নদী ভাঙন সংগ্রাম কমিটি’ নতুন করে আন্দোলন শুরু করলে সরকারের নজরে আসে বিষয়টি।
এর ধারাবাহিকতায় রামগতি–কমলনগরের জন্য ১৯৮ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়। পরে মেজর (অব.) আবদুল মান্নান এমপি হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালে ২০২১ সালে একনেকে প্রায় ৩ হাজার ৮৯ কোটি টাকার ৩১ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প অনুমোদিত হয়। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে কমলনগরের সাহেবেরহাট এলাকায় কাজের উদ্বোধন করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের পর কিছু ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে গেছে এবং অর্থছাড় না হওয়ায় প্রকল্পের অগ্রগতি এখন স্থবির।
জেএসডির উপজেলা সভাপতি ও সাবেক নদী ভাঙন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আবদুল মোতালেব বলেন, “মেঘনার ভাঙনরোধে শুরু থেকেই আমরা আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু এখন ভাঙনকে পুঁজি করে অনেকেই রাজনীতি করছে। আ স ম আবদুর রবের অবদান অকল্পনীয়।”
প্রধান কার্যালয়ঃ মহা সি.এন.জি ভবন সংলগ্ন (৪র্থ তলা), ঢাকা- ময়মনসিংহ রোড, মাওনা চৌরাস্তা, শ্রীপুর, গাজীপুর।
মোবাইলঃ ০১৫৩১-১৭২৭৫০ , ইমেইলঃ dbhorerpatrika.com
ওয়েবসাইটঃ www.bhorerpatrika.com বিজ্ঞাপনঃ ০১৩০৫-৯৫০৬২৫ ইমেইলঃ info@bhorerpatrika.com