
মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প এলাকায় ৪৪৫ হেক্টর ফসলি জমি আক্রান্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁদপুর (মতলব উত্তর) : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প এলাকায় কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রসহ প্রবল শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক তথ্যমতে, অন্তত ৪৪৫ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বোরো ধান, ভুট্টা, পাট, তিল, মুগ ও গ্রীষ্মকালীন সবজির বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গত রোববার (২৬ এপ্রিল) রাতে আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টির পর মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হতে শুরু করে। কয়েকদিনের তীব্র তাপদাহের পর বৃষ্টি স্বস্তি আনলেও শিলাবৃষ্টি কৃষকদের জন্য নতুন দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত জমির মধ্যে বোরো ধান ৩২০ হেক্টর, ভুট্টা ৫০ হেক্টর, পাট ২০ হেক্টর, গ্রীষ্মকালীন সবজি ৫০ হেক্টর, গ্রীষ্মকালীন ভুট্টা ৫ হেক্টর, তিল ৫ হেক্টর এবং মুগ ৫ হেক্টর রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের আওতাধীন বোরো ধান এখন পাকার পর্যায়ে। অনেক কৃষক ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, কেউ কেউ ইতোমধ্যে কেটে মাঠে রেখে গেছেন। শিলাবৃষ্টিতে এসব ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভুট্টাও পরিপক্ব পর্যায়ে পৌঁছেছিল। কিছু কৃষক ভুট্টা কেটে বাড়ির উঠোনে শুকাতে দিয়েছিলেন। হঠাৎ ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে এসব ফসল ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে।
এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়েছে এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে সড়কে পড়ে থাকায় কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
ওঠারচর গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা আতাউর রহমান সরকার বলেন, “এবার ধানের ভালো ফলন হয়েছিল। কিন্তু শিলাবৃষ্টিতে প্রায় ২০ শতাংশ পাকা ধান মাটিতে পড়ে গেছে। এখন বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছি।”
দেওয়ানজীকান্দি গ্রামের ভুট্টাচাষি আব্দুল হান্নান শিকদার বলেন, “আগের ঝড়ে ভুট্টা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, এবার শিলাবৃষ্টিতে আরও বেশি ক্ষতি হয়েছে। উৎপাদন খরচ উঠবে কি না চিন্তায় আছি।”
পাটচাষি দেলোয়ার হোসেন জানান, ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কোমল পাটগাছ ভেঙে পড়েছে, এতে ফলন কমে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
তালতলী গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঢেঁড়স ও ডাঁটা চাষ করলেও শিলাবৃষ্টিতে গাছ নষ্ট হয়ে গেছে।
মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে ৪৪৫ হেক্টর জমি আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত হিসাব করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখীর কারণে বোরো ধান, ভুট্টা ও সবজির বেশি ক্ষতি হয়েছে। কৃষকদের দ্রুত কাটা ধান নিরাপদে সংরক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ফসল ব্যবস্থাপনায় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
প্রধান কার্যালয়ঃ মহা সি.এন.জি ভবন সংলগ্ন (৪র্থ তলা), ঢাকা- ময়মনসিংহ রোড, মাওনা চৌরাস্তা, শ্রীপুর, গাজীপুর।
মোবাইলঃ ০১৫৩১-১৭২৭৫০ , ইমেইলঃ dbhorerpatrika.com
ওয়েবসাইটঃ www.bhorerpatrika.com বিজ্ঞাপনঃ ০১৩০৫-৯৫০৬২৫ ইমেইলঃ info@bhorerpatrika.com