
মো. ওমর ফারুক, লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুরের রায়পুর, সদর ও রামগঞ্জ উপজেলার শত শত গ্রাহক হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের কবলে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ব্যবহার অপরিবর্তিত থাকলেও অনেকের বিল এসেছে আগের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। এমনকি বন্ধ মিটারের বিপরীতেও হাজার হাজার টাকার বিল পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে বিদ্যুৎ বিভাগের বিরুদ্ধে। এতে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত মে মাসে অধিকাংশ গ্রাহকের বিল এপ্রিল মাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ এসেছে। রায়পুর শহরের নতুনবাজার এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন জানান, এপ্রিল মাসে তাঁর বিদ্যুৎ বিল ছিল ৪ হাজার ৩৩৯ টাকা। কিন্তু মে মাসে একই সংযোগে বিল এসেছে ৯ হাজার ৭৩৩ টাকা। বিল বৃদ্ধির কারণ জানতে একাধিকবার বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করেও কোনো সদুত্তর পাননি তিনি।
একই অভিযোগ করেছেন রায়পুরের টিএনটি সড়কের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন।
তিনি জানান, বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ প্রায় একই থাকা সত্ত্বেও এপ্রিলে যেখানে বিল এসেছিল ১ হাজার ৬৯০ টাকা, মে মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৯২ টাকায়। জসিম উদ্দিন বলেন, “দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে এমনিতেই দিশেহারা মানুষ, তার ওপর বিদ্যুৎ বিলের এমন অনিয়ম নতুন করে দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে।”
সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে দিনমজুর মাসুদ আলমের সঙ্গে। সেচের কাজে ব্যবহৃত তাঁর বিদ্যুৎ মিটারটি গত দুই মাস ধরে বন্ধ। অথচ বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে তাঁকে ৬ হাজার ৪২১ টাকার বিল পরিশোধের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মাসুদ আলম বলেন, “মিটার বন্ধ, কিন্তু বিল আসছে। অফিসে গিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।”
ব্যবসায়ী নজির আহাম্মদের অভিযোগ, তাঁর বিল ৯০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩ হাজার ২৫০ টাকায় ঠেকেছে।
তিনি জানান, অফিসে গেলে কর্মকর্তারা আগে বিল পরিশোধের পরামর্শ দেন এবং পরে তা সমন্বয়ের আশ্বাস দেন। কিন্তু সাধারণ গ্রাহকদের পক্ষে আগে অতিরিক্ত টাকা পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই ভোগান্তির শিকার। অনেকের অভিযোগ, নিয়মিত বিল পরিশোধ করার পরও পরবর্তী মাসে পুরোনো বকেয়া যুক্ত করে বাড়তি বিল পাঠানো হচ্ছে। রায়পুর এলএম পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিদ্যুৎ বিভাগের গাফিলতি ও ভুল বিল তৈরির দায় গ্রাহকদের ওপর চাপানো হচ্ছে। বিল সংশোধনের নামে বিদ্যুৎ অফিসে বারবার ধর্ণা দেওয়াটা সাধারণ মানুষের জন্য চরম হয়রানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভুল বিল বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছেন।
প্রধান কার্যালয়ঃ মহা সি.এন.জি ভবন সংলগ্ন (৪র্থ তলা), ঢাকা- ময়মনসিংহ রোড, মাওনা চৌরাস্তা, শ্রীপুর, গাজীপুর।
মোবাইলঃ ০১৫৩১-১৭২৭৫০ , ইমেইলঃ dbhorerpatrika.com
ওয়েবসাইটঃ www.bhorerpatrika.com বিজ্ঞাপনঃ ০১৩০৫-৯৫০৬২৫ ইমেইলঃ info@bhorerpatrika.com