
মো. ওমর ফারুক, লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুর শহরের অলিগলিতে সন্ধ্যা নামলেই পরিচিত এক মানুষকে দেখা যায়—কাঁধে কাপড়ের ব্যাগ, হাতে পুরোনো দাঁড়িপাল্লা, আর মুখে শান্ত হাসি। তিনি তোফায়েল হোসেন। বয়স ৬০–এর ঘরে, কিন্তু থামেনি তাঁর পথ চলছে। চার দশকের বেশি সময় ধরে শহরের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বাদাম বিক্রি করেই চলছে তাঁর সংসার।
সদর উপজেলার চুমচর ইউনিয়নের কালিচর গ্রামের বাসিন্দা তোফায়েল পাঁচ সন্তানের বাবা। বাদাম বিক্রি তাঁর মূল পেশা। কখনো কখনো দিনমজুরের কাজও করতে হয়। দিনে গড়ে দুই হাজার টাকা আয় হয় বলে জানান তিনি।
তোফায়েলের জীবনের সবচেয়ে বড় স্মৃতি লুকিয়ে আছে তাঁর হাতের দাঁড়িপাল্লাটিতে। টানা ৪৬ বছর ধরে একই পাল্লা দিয়ে বাদাম মেপে বিক্রি করছেন তিনি। নতুন একটি পাল্লা কেনার ইচ্ছা থাকলেও পুরোনোটির সঙ্গে রয়েছে অন্য রকম টান।
তোফায়েল বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই এই কাজ করি। পরিশ্রম করে খাই—এটাই আমার গর্ব। নিজের চেষ্টায় স্বাবলম্বী হয়েছি। কাজটা ছেড়ে দিতে মন চায় না।’ দাঁড়িপাল্লা নিয়ে তিনি বলেন, ‘৪৬ বছর ধরে আমার সঙ্গী এটা। নতুন পাল্লা নেবো, কিন্তু এটাকে ছাড়তে মন সায় দেয় না। এটা শুধু কাজের যন্ত্র না, একটা স্মৃতি, একটা ইতিহাস।’
স্থানীয় বাসিন্দা রাজু জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি তোফায়েলকে বাদাম বিক্রি করতে দেখেন। ‘তোফায়েল ভাই খুব সৎ ও পরিশ্রমী মানুষ। তাঁর দাঁড়িপাল্লা বহু পুরোনো, এখনো সেটা দিয়ে কাজ করেন। তাঁর মতো আন্তরিক বিক্রেতা এখন খুব কম পাওয়া যায়,’ বলেন তিনি।
লক্ষ্মীপুর শহরের বাসিন্দাদের চোখে তোফায়েল শুধু একজন বাদাম বিক্রেতা নন; তিনি এক পরিশ্রমী মানুষের প্রতিচ্ছবি। বয়স বাড়ছে, চুল সাদা হচ্ছে, কিন্তু হাঁটা থামাননি তোফায়েল। তাঁর কাছে এই পেশা শুধু জীবিকা নয়—জীবনেরই অংশ।
আর এই পথচলাই বলে দেয়, পরিশ্রমী মানুষের গল্প কখনো থামে না।
