

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : বন্য প্রাণী সংরক্ষণে নতুন আইন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত আইনে বন্য প্রাণী হত্যাসহ সংশ্লিষ্ট অপরাধগুলোকে জামিন অযোগ্য (নন–বেইলেবল) ও কগনিজেবল (আদালতের অনুমতি ছাড়াই গ্রেপ্তারযোগ্য) করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন’–এর নতুন খসড়ায় জামিনের সুযোগ না রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এখনো খসড়াটি মন্ত্রণালয়ের পর্যায়ে রয়েছে, শিগগিরই তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।’
রোববার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন ভবনে ‘আন্তর্জাতিক মিঠাপানির ডলফিন দিবস ২০২৫’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, ‘বন্য প্রাণী রক্ষায় শুধু কঠোর আইন করলেই হবে না, প্রয়োজন মানসিকতা ও আচরণের পরিবর্তন। আমরা অনেক সময় নিরীহ প্রাণীকে ভয় বা কুসংস্কার থেকে হত্যা করি। এতে সমাজের মানবিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘মেছো বিড়ালকে আমরা ভুলভাবে “মেছো বাঘ” বলে ভীতিকর রূপ দিই। ফলে মানুষ প্রাণীটিকে মেরে ফেলে, ছবিও তোলে। এই নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে দাঁড়াতে হবে।’
অনুষ্ঠানে ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটির কান্ট্রি ডিরেক্টর ও ডলফিন বিশেষজ্ঞ ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, দেশের ৪৫টি বড় নদীতে জরিপ করে ৩৯টিতে ২ হাজার ৮২টি ডলফিন শনাক্ত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রায় ২৫০টি ডলফিন মারা গেছে, যার ৮০ শতাংশই কারেন্ট জাল বা ফাঁস জালে আটকে মারা গেছে।
এ প্রসঙ্গে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, ‘ডলফিন বাঁচানো মানে নদী বাঁচানো। নদী যদি দূষিত হয়, তা যেমন ডলফিনের জন্য বিপদ, তেমনি মানুষের জন্যও। যে সমাজ পরিষ্কার পানি রক্ষা করতে পারবে, সেই সমাজই সভ্য।’
রিজওয়ানা হাসান জানান, দেশের প্রতিটি জেলায় বন বিভাগকে সহায়তা করার জন্য স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে, যাতে বন্য প্রাণী উদ্ধার ও সংরক্ষণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী প্রমুখ।
সাতক্ষীরার স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা নতুন আইনের প্রস্তাবকে ‘দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে হরিণ ও অন্যান্য প্রাণী শিকার, বিষ দিয়ে মাছ ধরা ও অবৈধ কাঠ পাচারের মতো অপরাধগুলো দুর্বল আইন ও সহজ জামিনব্যবস্থার কারণে রোধ করা সম্ভব হয়নি। নতুন আইনে এসব অপরাধ রোধে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত হবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেছেন।
প্রধান কার্যালয়ঃ মহা সি.এন.জি ভবন সংলগ্ন (৪র্থ তলা), ঢাকা- ময়মনসিংহ রোড, মাওনা চৌরাস্তা, শ্রীপুর, গাজীপুর।
মোবাইলঃ ০১৫৩১-১৭২৭৫০ , ইমেইলঃ dbhorerpatrika.com
ওয়েবসাইটঃ www.bhorerpatrika.com বিজ্ঞাপনঃ ০১৩০৫-৯৫০৬২৫ ইমেইলঃ info@bhorerpatrika.com