বন্ধুর কবর খুঁড়তে গিয়ে কবরে লুটিয়ে পড়লেন আরেক বন্ধু, দুজনের মৃত্যুতে এলাকায় শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁদপুর (ফরিদগঞ্জ) :চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় বন্ধুর কবর খুঁড়তে গিয়ে সেই কবরের মধ্যেই লুটিয়ে পড়ে মারা গেছেন আরেক বন্ধু। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে পৌর এলাকার কেরোয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবুল হাশেম (৯০) ও বাচ্চু পাটওয়ারী (৮৫) দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। একজন কাঠমিস্ত্রি এবং অন্যজন স্থানীয় একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। এলাকায় তারা দুজনই পরিচিত ছিলেন মানবসেবী হিসেবে—কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই প্রায়ই তারা একসঙ্গে কবর খুঁড়ে দিতেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, তাদের খোঁড়া কবরের সংখ্যা শতাধিক।

পরিবার ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, রবিবার রাতে তারা একসঙ্গে চা পান করেন এবং সোমবার ভোরে ফজরের নামাজও আদায় করেন। কিন্তু সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে বাচ্চু পাটওয়ারী মারা যান।

বন্ধুর মৃত্যুর খবর পেয়ে আবুল হাশেম নিজেই কবর খুঁড়তে কবরস্থানে যান। কবর খোঁড়ার একপর্যায়ে হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং খোঁড়া কবরের মধ্যেই লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে উপরে তুললেও দেখা যায়, তিনি সেখানে মারা গেছেন।

আবুল হাশেমের ছেলে জহির হোসেন বলেন, “আমার বাবা ও বাচ্চু চাচা ছিলেন খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তারা সব সময় একসঙ্গে থাকতেন এবং দাফনকাজে সহযোগিতা করতেন। বাচ্চু চাচার মৃত্যুর খবর শুনে বাবা খুব ভেঙে পড়েন। পরে নিজেই কবর খুঁড়তে যান, সেখানেই তার মৃত্যু হয়। আমরা সবার কাছে তাদের জন্য দোয়া চাই।”

বাচ্চু পাটওয়ারীর ভাতিজা নাজির আহমেদ হুমায়ুন পাটওয়ারী বলেন, “আবুল হাশেম চাচার সঙ্গে আমরা কবর খুঁড়ছিলাম। শেষ পর্যায়ে হঠাৎ তিনি কবরে পড়ে যান। পরে দ্রুত তুলে আনা হলেও তিনি আর বেঁচে ছিলেন না।”

স্থানীয়রা জানান, দুই বন্ধুর এমন মৃত্যু এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। তাদের মানবিক সম্পর্ক ও একসঙ্গে জীবনযাপনের ঘটনা এখন এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।