বনজীবীদের হাহাকার ও সুন্দরবনে প্রবেশের প্রতীক্ষা: পহেলা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রহর গুনছে উপকূলের মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৫ ঘন্টা আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা : তিন মাস সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকায় সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলে কিনারে বসে দিন গুনছেন বনজীবীরা। বিকল্প কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতির অপেক্ষায় দিন কাটছে তাদের। তবে সেই অপেক্ষার পালা শেষ হতে আরও দীর্ঘ সময় বাকি, পহেলা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা নিয়েই দিন কাটাতে হবে তাদের।

সুন্দরবনে প্রবেশের সুযোগ না থাকায় লোকালয়ে ছোটখাটো মাছ ধরে কোনোমতে সংসার চালাচ্ছেন এই প্রান্তিক মানুষগুলো। কখনো জোটে দুমুঠো ভাত, আবার কখনো কাটছে উপবাসে। সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা স্টেশন এলাকার চিত্রও একই রকম। অনেক বনজীবী লোকালয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছেন, আবার কেউ কেউ নৌকা নিয়ে হাজির হয়েছেন কদমতলা স্টেশনে বিএলসি (Boat Licence Certificate) নবায়নের জন্য।

বিএলসি নবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে কদমতলা স্টেশন কর্মকর্তা মনিরুল কবির এই প্রতিবেদককে বলেন, “সরকারি নীতিমালা মেনে প্রতিটি নৌকার সঙ্গে পুরোনো বিএলসির মিল আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। পুনরায় মাপজোখ করে নীতিমালা অনুযায়ী বিএলসি নবায়ন করা হচ্ছে।”

সাতক্ষীরা রেঞ্জের কৈখালী স্টেশন কর্মকর্তা শ্যামাপ্রসাদ রায় জানান, প্রতিটি নৌকা ঘাটে এনে পুরোনো বিএলসির মাপজোখ ঠিক আছে কি না তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চেক করে সরকারি নিয়ম মেনে নবায়ন করা হচ্ছে।

সর্বশেষ বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা ইরফান উদ্দিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, প্রতিটি নৌকা স্টেশনের ঘাটে এনে তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে মাপ ও মেজারমেন্ট যাচাই করে বিএলসি নবায়ন করছেন। সরকারি নীতিমালার বাইরে একচুলও ছাড় দেওয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি এই নবায়ন কার্যক্রম স্বচ্ছতার সঙ্গে তদারকি করার জন্য প্রতিবেদকের প্রতি আহ্বান জানান।

এদিকে একদিকে বন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যদিকে জলবায়ুর চরম প্রভাবে উপকূলীয় জনপদের জীবন আজ বিপর্যস্ত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবন ও উপকূলের লাখো মানুষের এই বহুমুখী সংকট উত্তরণে দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করা এখনই জরুরি।