‘বছরে দেশের ৯৪ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে আড়াই লাখ করা হয়েছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৮ মাস আগে

সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা : ১৯৭১ সালের ২০ নভেম্বর সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ, শ্যামনগর ও দেবহাটা পাকবাহিনীর দখলমুক্ত হয়। এই মুক্ত দিবস উপলক্ষে কালিগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের বর্ণাঢ্য মিলনমেলা। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় উপজেলা মাঠে এ অনুষ্ঠান হয়।

জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে মিলনমেলার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল, মুক্তিযোদ্ধা ডা. মো. শাহ জাহান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ৯ নম্বর সেক্টরের সহ-অধিনায়ক ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সদস্য অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন এম নুরুল হুদা। বক্তব্য দেন ৯ নম্বর সেক্টরের কোম্পানি কমান্ডার অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. আহসান উল্যাহ, মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল এম এস একে আজাদ, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সদস্য ও খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়ক আব্দুল্লাহ হিল সাফি, সাতক্ষীরা জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক মো. শহিদুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুজা মণ্ডল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেল) মো. রাজীব, কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ অনেকে। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিক্ষক ও সাংবাদিক এস এম শহীদুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের ঘোষিত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৯৪ হাজার থেকে বেড়ে আড়াই লাখে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের দাবি, এত বিপুল সংখ্যায় মুক্তিযোদ্ধা থাকলে দেশ স্বাধীন হতে ৯ মাস লাগত না। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের কারণে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা প্রত্যাশিত সম্মান পান না বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা। বক্তারা বলেন, ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা যদি না থাকত, তাহলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সোনার খাট দেওয়া যেত।’ এজন্য প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়নে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, সেটিকে তাঁরা স্বাগত জানান।

বক্তারা আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে দলীয়করণ ও ভুয়া তালিকার কারণে সারাদেশে ৫৪টি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ আক্রান্ত হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা সমুন্নত ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা একাত্তরের অগ্নিঝরা দিনের স্মৃতিচারণ করেন, শহীদ ও প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। মিলনমেলায় পাঁচ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা অংশ নেন।