
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার পর যুবদলের এক নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযুক্ত আল-আমিন ছৈয়াল সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের উত্তর চররমনী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০ নম্বর চররমনী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
সোমবার (১ জুন) দুপুরে জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কারের তথ্য জানানো হয়।
জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রশিদুল হাসান লিংকন বলেন, দলীয় নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আল-আমিন ছৈয়ালকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংগঠনের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বহিষ্কৃত ব্যক্তির কোনো ধরনের কর্মকাণ্ডের দায়-দায়িত্ব দল বহন করবে না। একই সঙ্গে যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাঁর সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আল-আমিন ছৈয়ালের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় মামলা হয়েছে। রোববার রাতে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন। এ সুযোগে অভিযুক্ত আল-আমিন বিভিন্ন সময় ওই গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তাঁকে নানাভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখানো হতো বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ওই নারী ঘর থেকে বের হলে আল-আমিন তাঁকে মুখ চেপে ধরে পাশের একটি সুপারি বাগানে নিয়ে যান। পরে গলায় ছুরি ঠেকিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, ঘটনাটি কাউকে জানালে কিংবা থানায় মামলা করলে ভুক্তভোগীর একমাত্র সন্তানকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার পর পরিবারটি আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।
ভুক্তভোগীর ভাই বলেন, “আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। অপরাধী যেই হোক, তার বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”
অভিযুক্ত আল-আমিন ছৈয়ালের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু হানিফ বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।
তবে মামলার অভিযোগের বিষয়ে এখনো আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। আইন অনুযায়ী অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্দোষ বলে গণ্য হবেন।
