

সিরাজুল ইসলাম | সাতক্ষীরা : নয়নাভিরাম সুন্দরবনের কোলে বঙ্গোপসাগরের তীরে জেগে ওঠা এক অনন্য সমুদ্রসৈকত মান্দারবাড়িয়া। বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ-পশ্চিমের জনপদ সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় অবস্থিত এই সৈকতটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সুন্দরবনের সবুজ বনভূমি এক পাশে, অন্য পাশে সাগরের বিশাল জলরাশি—এই দুইয়ের অপূর্ব সহাবস্থানে গড়ে ওঠা প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ মান্দারবাড়িয়া সৈকত এখনো অনেকটাই অনাবিষ্কৃত। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাব এবং সরকারি উদ্যোগের ঘাটতির কারণে দীর্ঘদিনেও এটি পর্যটকদের কাছে সেভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেনি।
শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের নীলডুমুর ঘাট থেকে জলপথে মান্দারবাড়িয়ার দূরত্ব প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ কিলোমিটার। যাত্রাপথে সুন্দরবনের আঁকাবাঁকা নদী, কেওড়া, গেওয়া, গরান ও সুন্দরী গাছের সারি, হরিণ, বানর, নানা প্রজাতির পাখি—সব মিলিয়ে এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করে পর্যটকদের জন্য। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য এখানে বিশেষভাবে মনোমুগ্ধকর।
পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, মান্দারবাড়িয়াকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা গেলে এটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জীবিকায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। উপকূলীয় পর্যটনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা সম্ভব।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী উপকূলীয় পর্যটন মোট বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ অবদান রাখে এবং মোট কর্মসংস্থানের ৬ থেকে ৭ শতাংশ সৃষ্টি করে। এই বাস্তবতায় মান্দারবাড়িয়ার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে দেশের পর্যটন খাতে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো, নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা, পর্যটন সুবিধা এবং কমিউনিটি বেইজড ট্যুরিজম চালু করা গেলে মান্দারবাড়িয়া একটি টেকসই পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা গেলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।
সাতক্ষীরার পর্যটন সম্ভাবনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ইতিহাসও। শ্যামনগরের ইশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধূমঘাট একসময় যশোরের জমিদার প্রতাপাদিত্যের রাজধানী ছিল। মুঘল আমলের সেই ঐতিহাসিক স্থান আজ ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পর্যটনের সঙ্গে এই ঐতিহ্যকে যুক্ত করা গেলে সাতক্ষীরা জেলা হতে পারে প্রকৃতি ও ইতিহাসনির্ভর পর্যটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলে মান্দারবাড়িয়া ও আশপাশের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো দেশের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হতে পারে। এতে যেমন বাড়বে পর্যটক, তেমনি বদলাবে উপকূলীয় মানুষের জীবনমান।
প্রধান কার্যালয়ঃ মহা সি.এন.জি ভবন সংলগ্ন (৪র্থ তলা), ঢাকা- ময়মনসিংহ রোড, মাওনা চৌরাস্তা, শ্রীপুর, গাজীপুর।
মোবাইলঃ ০১৫৩১-১৭২৭৫০ , ইমেইলঃ dbhorerpatrika.com
ওয়েবসাইটঃ www.bhorerpatrika.com বিজ্ঞাপনঃ ০১৩০৫-৯৫০৬২৫ ইমেইলঃ info@bhorerpatrika.com