
নিজস্ব প্রতিবেদক, নোয়াখালী : নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষকদের হেনস্তা, হত্যার হুমকি ও অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে ছাত্রদল। অভিযুক্ত চার নেতার বিরুদ্ধে বহিষ্কার ও পদ স্থগিতের পাশাপাশি সাবেক এক সভাপতিকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে কলেজের সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর জাকির হোসেন সস্ত্রীক দাপ্তরিক কাজে কলেজে আসেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর এবিএম ছানা উল্লাহ, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েলসহ কয়েকজন শিক্ষক একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে বসেন। অভিযোগ রয়েছে, তখন কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী সেখানে অতর্কিত হামলা চালান।
শিক্ষকদের অভিযোগ, হামলাকারীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং তাদের খাবার খেতে বাধা দেয়। এ সময় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানের ওপর শারীরিকভাবে আক্রমণ চালিয়ে তার শার্ট ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাতেই কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সই করা পৃথক দুটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে কলেজ শাখার সিনিয়র সহসভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহসভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন শাওনকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের সাংগঠনিক পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া সাবেক সভাপতি আকবর হোসেনের বিরুদ্ধেও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ওঠায় কেন তার বিরুদ্ধে স্থায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।
এদিকে শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছে নোয়াখালী সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গৃহীত সাংগঠনিক ব্যবস্থার পর তারা কর্মসূচিতে কোনো পরিবর্তন আনবেন কি না, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তা জানা যায়নি।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত এই পদক্ষেপ সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
