
নিজস্ব প্রতিবেদক, নোয়াখালী : স্বল্প পুঁজি ও অল্প জায়গায় চাষযোগ্য পুষ্টিকর খাদ্য মাশরুম দেশে ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তবে নোয়াখালীতে বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম চাষের সম্ভাবনা তৈরি হলেও পর্যাপ্ত বাজার না থাকায় হতাশ হয়ে পড়ছেন উদ্যোক্তারা।
পুষ্টিবিদদের মতে, মাশরুম একটি পুষ্টিগুণে ভরপুর খাদ্য। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে এবং ক্যানসার, টিউমার ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে উপকারী ভূমিকা রাখে। সহজে চাষযোগ্য হওয়ায় নতুন উদ্যোক্তাদের কাছে এটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জ ইউনিয়নের পাটোয়ারী বাড়ি পোল এলাকায় গড়ে উঠেছে এমনই একটি ব্যতিক্রমী মাশরুম খামার। অবসরপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সফি উল্যা ২০২৫ সালে অবসরের পর প্রায় ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে দেড় শতাংশ জমিতে আধাপাকা ঘর নির্মাণ করে শুরু করেন খামারটি।
কৃষিবিদ সফি উল্যা বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি মাশরুম চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার খামারে নিয়মিত উৎপাদন হচ্ছে সতেজ মাশরুম। তবে মানুষের মধ্যে এখনো মাশরুম নিয়ে নানা ভুল ধারণা থাকায় বাজার তৈরি হয়নি। “সরকারিভাবে প্রচারণা ও বাজার তৈরি হলে এই খাত অনেক এগিয়ে যাবে,” বলেন তিনি।
পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় তার খামারটি এখন সফলতার মুখ দেখছে। বর্তমানে প্রায় সাড়ে চার হাজার স্পন প্যাকেটের মধ্যে দেড় হাজার প্যাকেট থেকে নিয়মিত মাশরুম সংগ্রহ করা হচ্ছে। শীতকালে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ কেজি উৎপাদন হলেও বর্তমানে তা গড়ে ২ কেজিতে নেমে এসেছে। প্রতি কেজি মাশরুম ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সফি উল্যার ছেলে মো. নূর উল্যা বলেন, “ক্রেতা বাড়লে আমরা খামারটি আরও বড় করতে পারব। এখন উৎপাদন থাকলেও বাজার সীমিত।”
স্থানীয় ভোক্তারা বলছেন, আগে বন্য মাশরুম খাওয়ার ঝুঁকি থাকলেও খামারের মাশরুম নিরাপদ হওয়ায় তারা আগ্রহী হচ্ছেন। নিয়মিত মাশরুম খাওয়ায় তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ছে বলেও দাবি করেন তারা। তবে মাশরুমের উপকারিতা সম্পর্কে আরও ব্যাপক প্রচারণা প্রয়োজন বলে মনে করেন অনেকে।
নোয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশীষ কুমার কর জানান, পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাস প্রকল্পের আওতায় জেলায় কয়েকজন উদ্যোক্তাকে মাশরুম চাষে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। “মানুষ এখনো মাশরুম খাওয়ায় পুরোপুরি অভ্যস্ত নয়, তাই বাজার তৈরি হয়নি। আমরা সেমিনার ও প্রচারণার মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি,” বলেন তিনি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক বিপণন ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা গেলে নোয়াখালীতে মাশরুম চাষ একটি সম্ভাবনাময় খাতে পরিণত হতে পারে। এতে যেমন পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে, তেমনি সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান।
প্রধান কার্যালয়ঃ মহা সি.এন.জি ভবন সংলগ্ন (৪র্থ তলা), ঢাকা- ময়মনসিংহ রোড, মাওনা চৌরাস্তা, শ্রীপুর, গাজীপুর।
মোবাইলঃ ০১৫৩১-১৭২৭৫০ , ইমেইলঃ dbhorerpatrika.com
ওয়েবসাইটঃ www.bhorerpatrika.com বিজ্ঞাপনঃ ০১৩০৫-৯৫০৬২৫ ইমেইলঃ info@bhorerpatrika.com