দ্য ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণ : আরেক হুমকিতে ব্রাজিলের নতুন প্রেসিডেন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৩ years ago

২০০৩ ও ২০১০ এর মধ্যে তার প্রথম দুটি প্রশাসনের অধীনে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় হওয়া সত্ত্বেও, এই সেক্টরের অনেকেই লুলা সম্পর্কে সতর্ক রয়েছেন।

ব্রাজিল এখন বিশ্বের বৃহত্তম সয়াবিন রপ্তানিকারক, যার ৭০ শতাংশ চীনে চলে যায়। বলসোনারোর অধীনে, চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক কিছুটা স্তিমিত হয়। তবে কিছু কৃষি ব্যবসা সাবেক প্রেসিডেন্টের সময় উন্নতি লাভ করে। কৃষকদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত সরকারি ঋণ প্রসারিত করা হয়েছিল।জানুয়ারি মাসে বিদ্রোহীদের লরি, ট্রাক্টর ও খাবার সরবরাহ করতে কৃষি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত লোকেরা সাহায্য করেছিল কি না তা তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন।

বলসোনারোর প্রতি সমর্থনে লুলার প্রতিক্রিয়া আংশিকভাবে নির্ধারণ করবে এটি একটি শক্তিশালী পক্ষ থাকবে কি না। এখন পর্যন্ত, তার বক্তব্য এবং নীতি তার বিরুদ্ধে কাজ করছে। প্রেসিডেন্ট গত জানুয়ারিতে বিক্ষোভকারীদের ‘নাৎসি’ বলে অভিহিত করেন। অফিসে তার প্রথম সপ্তাহে তিনি দুটি বিভাগ তৈরি করেন যা বিরোধী রাজনীতিবিদ ও মুক্ত চর্চার সমর্থক উভয়কেই চিন্তিত করে।

লুলার সরকারি আদেশ বাকস্বাধীনতার প্রভাব সম্পর্কে শঙ্কা জাগিয়েছে। এ ছাড়া অনলাইনে ভুয়া খবর নিয়ন্ত্রণের জন্য সামাজিক মাধ্যমের প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে চুক্তি করার পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক আলেকজান্দ্রে ডি মোরেস গণতন্ত্রের জন্য হুমকি বলে মনে করেন এমন কয়েক ডজন অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করেন। বলসোনারোর সমর্থকরা একে সেন্সরশিপ বলেন নিন্দা করছেন।

অর্থনীতিও আপাতত লুলার অনুকূলে নেই। কোভিড-পরবর্তী পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ২০২১ সালে ব্রাজিলকে একটি উৎসাহ জুগিয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে ঢেলে সাজাচ্ছে লুলা সরকার। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রী ফার্নান্দো হাদ্দাদ বলেন তিনি জ্বালানি কর পুনরায় আরোপ করবেন। যা বলসোনারো গত বছরের নির্বাচনের আগে তুলে নিয়েছিলেন। ওয়ার্কার্স পার্টির প্রধান উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে দাম বাড়ানোর জন্য হাদ্দাদকে সমালোচনা করেন। তার দলের মধ্যে এ ধরনের দ্বন্দ্ব লুলার পক্ষে শাসন কাজ কঠিন করে তুলতে পারে।

লুলা মাত্র ১ দশমিক ৮ শতাংশ পয়েন্ট ব্যবধানে নির্বাচনে জয়ী হন। ১৯৮৫ সালে ব্রাজিলের গণতন্ত্রে ফিরে আসার পর থেকে সবচেয়ে কঠিন ফলাফল ছিল এটি। বলসোনারোর লিবারেল পার্টি ২০১৮ সালের তুলনায় গত বছর ৬৬টি বেশি আসন জিতেছে এবং এটি নিম্নকক্ষে সবচেয়ে বড় সংখ্যা। বলসোনারোর সঙ্গে জোটবদ্ধ প্রার্থীরাও সিনেট দখলের জন্য ২৭টি আসনের মধ্যে ১৩টি জিতেছেন। সামগ্রিকভাবে, বলসোনারোর মিত্ররা এখন দুটি চেম্বারের প্রায় এক তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করে। দেশের তিনটি সর্বাধিক জনবহুল এবং ধনী রাজ্য বলসোনারোর সঙ্গে সম্পৃক্ত গভর্নররা পরিচালনা করেন।

প্রেসিডেন্ট লুলার প্রত্যাশা হতে পারে, বলসোনারোর আইনি সমস্যায় পড়া। কিন্তু এমনটা ঘটলেও সাবেক প্রেসিডেন্টের জায়গায় দক্ষিণপন্থি প্রার্থীরা ইতি মধ্যেই চক্কর দিচ্ছেন। বলসোনারোর এক কংগ্রেস সমর্থক লুইজ ফিলিপ দে অরলেন্স ই ব্রাগানসা বলেছেন ‘বলসোনারো অত্যন্ত জনপ্রিয়, কিন্তু এটি আর ব্যক্তিত্বের বিষয় নয়।’ যদি বামপন্থি সরকার তোতলাতে শুরু করে তবে জনগণ ‘সমাধানের জন্য আমাদের দিকে তাকাবে’ বলে তিনি মনে করেন। এটি প্রেসিডেন্ট লুলা যা চাইবে তার চেয়ে অনেক দ্রুত ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েই যাচ্ছে।

সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট