দুবলার চরে শুঁটকির মৌসুম শুরু ১ নভেম্বর, রওনা দিচ্ছেন জেলেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৯ মাস আগে

উপকূলজুড়ে এখন ব্যস্ততা, সাগরে মাছ ধরতে প্রস্তুত দুই হাজার ট্রলার

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : দুবলার চরের আলোরকোলে এবারও শুরু হচ্ছে শুঁটকির মৌসুম। ১ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে এ মৌসুম চলবে আগামী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত। এই পাঁচ মাস সুন্দরবনের সাগর–সংলগ্ন চারটি চরে অস্থায়ীভাবে বসবাস করবেন দেশের উপকূলীয় জেলার কয়েক হাজার জেলে। ইতিমধ্যে তাঁরা প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছেন।

শনিবার সকাল থেকে ট্রলার, জাল, দড়ি, শুকনো খাবার, ঘর তৈরির কাঠ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে মোংলার পশুর নদ ও বঙ্গবন্ধু মোংলা-ঘাষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌচ্যানেলে জড়ো হচ্ছেন জেলেরা। বন বিভাগের অনুমতিপত্র (পাস) সংগ্রহ করে তাঁরা একে একে রওনা হচ্ছেন দুবলার চরের উদ্দেশে।

দুবলার চর ছাড়াও মাঝের চর, আলোরকোল ও শ্যালার চরে অস্থায়ী ঘর, মাছ শুকানোর চাতাল ও মাচা নির্মাণ করে এখানে তৈরি হবে শুঁটকি। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব নির্মাণে সুন্দরবনের গাছ ব্যবহার করা যাবে না।

শত শত ট্রলার, হাজারো জেলে

দুবলার চরে এই মৌসুমে প্রায় ১০ হাজার জেলে ও প্রায় ২ হাজার ট্রলার অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। তিনি বলেন, ‘চরে এ বছর ১ হাজার ৩০টি জেলেঘর, ৬৩টি ডিপো ও ৯৬টি দোকানঘর স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গত বছর সেখান থেকে সাড়ে চার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল। এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পাঁচ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা রয়েছে।’

পাইকগাছার জেলে বসন্ত কুমার মণ্ডল ও মোংলার জেলে বেল্লাল শেখ বলেন, ‘‘আমরা জাল, নৌকা, রান্নার সামগ্রী আর ঘর তৈরির সব জিনিসপত্র নিয়ে দুই দিন আগে মোংলায় চলে এসেছি। অনুমতি পেলেই রওনা হব দুবলার চরে। সেখানে পাঁচ মাস থাকতে হবে।’’

মাঠে বাড়তি নিরাপত্তা

বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া সুন্দরবনের নদী বা খালে প্রবেশ করা যাবে না এবং মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শুধু সাগরেই মাছ ধরা যাবে। নিরাপত্তার বিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাসানুর রহমান বলেন, ‘দুবলার শুঁটকি পল্লীর কার্যক্রম যথারীতি ১ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে। জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি কোস্টগার্ড ও বন বিভাগের বিশেষ দল কাজ করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জেলেরা যাতে জলদস্যু বা অপহরণকারীদের কবলে না পড়েন, সে জন্য এবার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

ট্রলার তৈরি, জাল সেলাই—সর্বত্র প্রস্তুতির হাওয়া

শুঁটকি মৌসুম ঘিরে কয়েক মাস আগেই উপকূলের বিভিন্ন অঞ্চলে জেলে ও মহাজনেরা ট্রলার তৈরি, মেরামত ও জাল সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন। দেশের নানা জেলা থেকে আসা কাঠমিস্ত্রিরা এখন মোংলা ও আশপাশের গ্রামে গ্রামে এসব কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগর থেকে ধরা মাছ (রূপচাঁদা, লইট্যা, ছুরি, কোরাল, বাটা ইত্যাদি) চরে এনে রোদে শুকিয়ে তৈরি হয় শুঁটকি। এই শুঁটকি দেশের চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয়।