দুবলার চরের জেলেরা ‘সাহেব’দের শাসনে বন্দি, সুদমুক্ত ঋণ ও স্বাস্থ্যসেবার দাবিতে কাঁপছে জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

শুঁটকি মৌসুমে ৪০ হাজার জেলের জীবন কেবল মহাজনদের নিয়ন্ত্রণে, সরকারিভাবে সহায়তার অভাব দৃশ্যমান

নিজস্ব প্রতিবেদক : সুন্দরবনের দক্ষিণে অবস্থিত দুবলার চরে মাছ ধরার মৌসুমে জেলেদের জীবন কেটে যায় দাদন, ঋণ ও প্রভাবশালী ‘সাহেবদের’ অত্যাচারে। স্বাস্থ্যসেবা ও সুপেয় পানির অভাবে দারিদ্র্যের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন প্রান্তিক জেলেরা।

দুবলার চর সাগর, নদী ও বন সংলগ্ন হলেও সরকারের নিয়ন্ত্রণ এখানে সীমিত। এ চরে মাছ ও শুঁটকি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন কয়েকজন প্রভাবশালী মহাজন বা স্থানীয় ‘সাহেবরা’। জেলেদের অভিযোগ, তাদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা না নিলে মাছ বিক্রি করা যায় না, আর বিক্রি করতে না পারলে মহাজনরা নির্যাতন চালান।

জেলে নজরুল ফকির জানান, “এক লাখ টাকা দাদন দিলে পাঁচ লাখ টাকার মাছ বুঝে নেন সাহেবরা। আমাদের কোনো অধিকার নেই। জলদস্যু না থাকলেও আমরা বন্দি।”

শীত মৌসুমে দুবলার চরে বসবাসকারী প্রায় ৪০ হাজার জেলের জন্য নেই চিকিৎসা, মেডিকেল ক্যাম্প বা সুপেয় পানি। নাহিদুল ইসলাম মৃধা জানান, “চরের কুয়া থেকে পানি তোলা ছাড়া অন্য উপায় নেই। অসুস্থ হলে বাগেরহাট বা খুলনায় যেতে হয় ১০–১২ ঘণ্টা।”

দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপ সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, “জেলেদের অভিযোগের সত্যতা আমার জানা নেই। সমিতিতে অভিযোগ দিলে সমাধান সম্ভব।” তবে জেলেরা সমিতিতে অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না।

সরকারি সূত্র জানায়, স্বাস্থ্যসেবা ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বন বিভাগের কর্মকর্তা ইমরান আহমেদ বলেন, “যদি লিখিত অভিযোগ আসে, সাহেবদের অবাধ্যতা বন্ধে ব্যবস্থা নেব।”

দুবলার চর মূলত নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত মাছ ধরা ও শুঁটকি তৈরির জন্য কর্মচঞ্চল হয়। এই সময়ে জেলেরা নদী ও সমুদ্রে একযোগে কাজ করেন, ১০–১২ জনের গ্রুপে মাছ ধরার পর চাতাল বা মাচায় শুকিয়ে শুঁটকি বানানো হয়।