
সাকিব হোসেইন, তিতাস (কুমিল্লা) সংবাদদাতা: কুমিল্লার তিতাস উপজেলা বিএনপিতে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিকেন্দ্রিক বলয় ভেঙে সাংগঠনিক চেইন-অফ-কমান্ড ফিরিয়ে আনতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে বর্তমান নেতৃত্ব।
এরই ধারাবাহিকতায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নির্বাচনের সময় বিশ্বাসঘাতকতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ভিটিকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. ফরিদ সরকারকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তবে বহিষ্কারের পর নিজের অপরাধ ঢাকতে ফরিদ সরকার যে ‘১৭ লাখ টাকার’ অভিযোগ তুলেছেন, তাকে রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও ‘সস্তা নাটক’ হিসেবে দেখছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়ার বিজয় ঠেকাতে একটি চক্র আড়ালে থেকে কাজ করেছে। ফরিদ সরকার দলীয় পদে থেকেও জনৈক স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন এবং ধানের শীষের বিপক্ষে নেতাকর্মীদের উস্কানি দিয়েছেন। যার সুনির্দিষ্ট ও অকাট্য প্রমাণ নবনির্বাচিত এমপি মহোদয়ের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ও তিতাস উপজেলা কমিটির কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ওসমান গনি ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক পত্রে তাকে বহিষ্কার করা হয়।
১৭ লাখ টাকার অভিযোগ: অপরাধ ঢাকার অপকৌশল?
বহিষ্কৃত হওয়ার পর ফরিদ সরকার দাবি করেছেন, ইউনিয়ন কমিটি গঠনের সময় তিনি উপজেলা নেতাদের ১৭ লাখ টাকা দিয়েছেন। তবে এই দাবিকে সম্পূর্ণ হাস্যকর ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছেন সাধারণ কর্মীরা।
তাদের প্রশ্ন:
* যদি টাকা দিয়েই পদ নেওয়া হতো, তবে পদ পাওয়ার সময় বা পরবর্তী দীর্ঘ সময়ে তিনি মুখ খুললেন না কেন?
* বহিষ্কৃত হওয়ার পরই কেন এই কাল্পনিক ‘আবিষ্কার’?
তৃণমূলের মতে, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা এবং উপজেলা বিএনপির বর্তমান সুশৃঙ্খল অবস্থানে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধনে তিনি এই গল্প সাজিয়েছেন। এমনকি নিজের পিঠ বাঁচাতে তিনি দলের প্রবীণ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন, যা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার শামিল।
নেতৃত্বের কড়া হুঁশিয়ারি
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়া বলেন, “আমরা তিতাসকে ষড়যন্ত্রমুক্ত রাখতে চাই। তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে কোনো আপস নেই। মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে সত্যকে ধামাচাপা দেওয়া যাবে না।”
তিনি আরও জানান, ভিত্তিহীন অভিযোগের বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই কোটি টাকার মানহানি মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। একই সাথে সাংগঠনিকভাবে তার ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
স্বস্তিতে তৃণমূল
ফরিদ সরকারের বহিষ্কারাদেশে তিতাস বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সাধারণ ভোটার ও নেতাকর্মীদের দাবি, যারা নির্বাচনের সময় অর্থের লোভে বা ব্যক্তিগত স্বার্থে দলের পিঠে ছুরি মারে, তাদের আর কখনোই দলে ফেরানো উচিত নয়। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে তিতাস বিএনপিকে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ‘পকেট কমিটি’ হতে না দিতে যে শুদ্ধি অভিযান চলছে, তাকে স্বাগত জানিয়েছেন ত্যাগী কর্মীরা।
