
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : টেন্ডার সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে রাজধানীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের উপপরিচালক আহমদ হোসেনকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর মধ্যে র্যাব পাঁচজন এবং বনানী থানা পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে সোমবার বিকেলে ডা. আহমদ হোসেন মহাখালীর ওয়াসা রোডের বাসায় হেঁটে ফিরছিলেন। পথে পুরাতন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পেছনের গলিতে মাস্ক পরা দুই ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়। হামলায় তার ডান হাত ও পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয়।
ঘটনার পর হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বনানী থানায় অজ্ঞাত ৮-১০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে সোমবার রাতেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড ইন্তেখাব চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ক্যানসার হাসপাতালের একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের জেরে এ হামলা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তদন্তে উঠে এসেছে, হামলাকারীদের ২০ হাজার টাকায় ভাড়া করা হয়।
র্যাবের দাবি অনুযায়ী, টেন্ডারকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপ—‘ইএমই ট্রেডার্স’ এবং ‘মোনায়েম গ্রুপ’-এর মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর মধ্যে ইএমই ট্রেডার্সের মালিক রুবেল মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে হামলার নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
র্যাব আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা স্বীকার করেছে যে ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়। তবে এটি পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ডিএমপির গুলশান জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান জানান, কড়াইল বস্তি এলাকা থেকে ইউসুফ আলী ও নেছার আহমেদ নামে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
