টেকনাফে ভারি বৃষ্টিতে অন্তত ৫০ গ্রাম প্লাবিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ২ years ago

মোহাম্মদ ইউনুছ অভি, টেকনাফ কক্সবাজার :

কক্সবাজারের টেকনাফে ভারি বৃষ্টিতে অন্তত ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় আট হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার রাত ৯ টার পর থেকে কক্সবাজারে বৃষ্টি শুরু হয়। বুধবার দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টি হচ্ছিল।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের উপ-সহকারি পরিচালক তোফায়েল আহমদ সকাল সন্ধ্যাকে জানান, মঙ্গলবার বেলা ১২ টা থেকে বুধবার বেলা ১২ টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

তবে কেবল টেকনাফেই বুধবার সকাল ৬টা থেকে ছয় ঘণ্টায় ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ডের তথ্য জানিয়েছেন টেকনাফ আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম।

বৃষ্টিতে কক্সবাজার জেলার অন্য কোনও উপজেলা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া না গেলেও টেকনাফের ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার তথ্য মিলেছে।

জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৮ গ্রাম, হ্নীলা ইউনিয়নের ১২ গ্রাম, টেকনাফ পৌরসভার ৭ গ্রাম, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৬ গ্রাম, সাবরাং ইউনিয়নের ৭ গ্রাম, বাহারছড়া ইউনিয়নের ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে

এতে কমপক্ষে ৮ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

হ্নীলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানিয়েছেন, তার ইউনিয়নের ১২ গ্রামের চার হাজার বেশি পরিবার পানি বন্দি রয়েছে। গ্রামগুলো হলো-জালিয়াপাড়া, সাইটপাড়া, ফুলের ডেইল, আলী আকবর পাড়া, রঙ্গিখালী লামার পাড়া, আলীখালি, চৌধুরী পাড়া, পূর্ব পানখালী, মৌলভীবাজার লামার পাড়া, ওয়াব্রাং, সুলিশপাড়া, পূর্ব সিকদার পাড়া। এসব গ্রামের চলাচলের রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

টেকনাফ পৌরসভার কলেজপাড়া, শীলবুনিয়া পাড়া, ডেইলপাড়া, জালিয়াপাড়া, খানকারডেইল, চৌধুরীপাড়া, কেকে পাড়া প্লাবিত হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র মুজিবুর রহমান। তিনি জানান, এই সাত গ্রামের মানুষ এখন পানিবন্দি। পানিতে ডুবে আছে টেকনাফ কলেজসহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। পৌরসভার ৭, ৮ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু ঘরবাড়িসহ চলাচলের রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাছের ঘেরসহ লবণেও।

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জানিয়েছেন, সদরের ছয় গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এগুলো হলো, মহেশখালীয়াপাড়া, তুলাতুলি, লেঙ্গুরবিল, খোনকারপাড়া, মাঠপাড়া ও রাজারছড়া।

শাহপরীরদ্বীপের সাত গ্রামসহ সাবরাং ইউনিয়নের ১০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি রয়েছে বলে জানিয়েছেন সবরাং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর হোছাইন

হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারি জানিয়েছেন, লম্বা বিল, উলুবনিয়া, আমতলি, মিনাবাজার, উনচিপ্রাং, কাঞ্চনপাড়া, কুতুবদিয়াপাড়া, রইক্ষ্যং গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে উনচিপ্রাং এলাকার একটি রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ঘরবাড়িতে এক ফুট উচ্চতার পানি উঠেছে।

বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন জানান, তার ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষ কম-বেশি পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

ভারি বৃষ্টির কারণে পানিবন্দি থাকা গ্রামের মানুষের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফের ইউএনও মো. আদনান চৌধুরী।

তিনি বলেন, “অতি ভারি বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই সকাল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। তাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রগুলোও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

টানা বৃষ্টিতে ভূমিধস হওয়ায় কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছে।

ভারি বৃষ্টির মধ্যে উখিয়ার ৮, ৯, ১০ ও ১৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে নয়জনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান। নিহতদের মধ্যে সাতজন রোহিঙ্গা, আর দুজন স্থানীয় বাংলাদেশি।