

সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা : প্রতি বছর বর্ষা এলেই দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের মানুষের বুক কাঁপে। নদীর পানি বাড়ে, বেড়িবাঁধে ফাটল ধরে, কোথাও কোথাও ভাঙন দেখা দেয়। ফলে জোয়ারের পানিতে ভেসে যায় ফসল, বাড়িঘর, গবাদিপশু। এভাবে প্রতি বছর একই দৃশ্য দেখা গেলেও সমস্যার টেকসই সমাধান হচ্ছে না।
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধে সম্প্রতি বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। একই অবস্থা তালা উপজেলার শাহাজাতপুর গ্রামেও। স্থানীয়দের আশঙ্কা, জোয়ারের পানি বাড়লে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হতে পারে বিস্তীর্ণ এলাকা।
আশাশুনির কামাল উদ্দিন (৫০) বলেন, ‘বছর বছর এমন ভয় নিয়ে বাঁচি। বাঁধে ফাটল ধরলেই রাত জেগে পাহারা দিই। সরকার বাঁধ মেরামত করে, কিন্তু টেকসই হয় না।’
উপকূলীয় এলাকার মানুষের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সংস্কারকাজ বেশির ভাগ সময় দায়সারাভাবে করা হয়। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ও কোদাল দিয়ে সাময়িক মেরামত করা হয়, কিন্তু বর্ষা শেষ না হতেই আবার একই জায়গায় ভাঙন দেখা দেয়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, উপকূলের বাঁধগুলো এখন ‘জীবন–মরণ’ প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হলেও, তা টেকসই সমাধান দিতে পারছে না।
বর্ষাকালে ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসের খবর পেলেই মানুষ ঘর ছেড়ে আশ্রয় নেয় সাইক্লোন সেন্টারে। কিন্তু সেখানেও খাবার ও টয়লেটের সংকটে পড়তে হয়। অন্যদিকে নিরাপদ পানির অভাব সারা বছরই চরম আকারে থাকে। পুকুরের পানি লবণাক্ত হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার দূরদূরান্ত থেকে পানির ব্যবস্থা করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামীতে উপকূলের বিপর্যয় আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।স্থানীয় মানুষ দীর্ঘদিন ধরে উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধের স্থায়ী সমাধান ও একটি “উপকূল উন্নয়ন বোর্ড” গঠনের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের বোর্ড গঠিত হলে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
প্রধান কার্যালয়ঃ মহা সি.এন.জি ভবন সংলগ্ন (৪র্থ তলা), ঢাকা- ময়মনসিংহ রোড, মাওনা চৌরাস্তা, শ্রীপুর, গাজীপুর।
মোবাইলঃ ০১৫৩১-১৭২৭৫০ , ইমেইলঃ dbhorerpatrika.com
ওয়েবসাইটঃ www.bhorerpatrika.com বিজ্ঞাপনঃ ০১৩০৫-৯৫০৬২৫ ইমেইলঃ info@bhorerpatrika.com