জিলকদ মাসের ফজিলত ও ইবাদত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

ইসলামিক ডেস্ক : জিলকদ হলো আরবি চান্দ্রবর্ষের একাদশ মাস। এটি হজের তিন মাস (শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজ)-এর দ্বিতীয় মাস এবং হজের প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়। একই সঙ্গে এটি চারটি হারাম মাসের (মহররম, রজব, জিলকদ ও জিলহজ) একটি।

ইসলামি ইতিহাস ও ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জিলকদ মাসকে ‘বিশ্রামের মাস’ বলা হয়। আরব সমাজে এ সময়ে যুদ্ধ-বিগ্রহ থেকে বিরত থাকা হতো এবং মানুষ বাণিজ্য ও অন্যান্য কাজ শেষে কিছুটা স্বস্তির সময় পেত। এ কারণে এই মাসের নাম ‘জুলকাআদাহ’ (বসা/বিশ্রাম গ্রহণ করা) থেকে এসেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

জিলকদ মাসের গুরুত্ব

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, রজব, শাবান, রমজান ও শাওয়াল মাসে ধারাবাহিকভাবে ইবাদতের পর জিলকদ মাস আসে প্রস্তুতি ও পুনর্গঠনের সময় হিসেবে। এরপর আসে জিলহজ ও মহররম, যা আবার ইবাদত ও ত্যাগের মাস।

এ কারণে জিলকদকে ইবাদতের প্রস্তুতির মধ্যবর্তী সময় হিসেবে দেখা হয়, যেখানে মুমিনরা অতীতের ইবাদতের শক্তি সঞ্চয় করে আগামী মাসগুলোর ইবাদতের জন্য প্রস্তুত হয়।

ইবাদত ও আমল

এই মাসে নির্দিষ্ট কোনো ফরজ বা ওয়াজিব ইবাদত না থাকলেও নফল আমল বেশি করার উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

নফল রোজা রাখা (যেমন আইয়ামে বিদ, সোম ও বৃহস্পতিবার)

নফল নামাজ আদায় (তাহাজ্জুদ, চাশত, ইশরাক ইত্যাদি)

কোরআন তিলাওয়াত বৃদ্ধি করা

দান-সদকা করা

আগামী হজ ও কোরবানির প্রস্তুতি গ্রহণ করা

ইসলামি শিক্ষায় সময়কে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোরআনে বলা হয়েছে, সময়ের কসম, মানুষ অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত, তবে তারা নয় যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে (সূরা আসর)।

হাদিসে এসেছে, মানুষের পাঁচটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে—জীবন, যৌবন, আয়, ব্যয় ও জ্ঞান অনুযায়ী আমল।

শিক্ষা ও তাৎপর্য

জিলকদ মাস মুসলমানদের জন্য একটি আত্মসমালোচনা ও প্রস্তুতির সময়। এই মাসে ইবাদতের পাশাপাশি জীবনের সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত।

লেখকের মতে, এই মাসে ইবাদতের মাধ্যমে পরবর্তী মাসগুলোর জন্য আত্মিক শক্তি অর্জন করা যায় এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ বৃদ্ধি পায়।