
মাহবুবুল আলম, নিজস্ব প্রতিবেদক :
জামালপুরের মাদারগঞ্জে ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রায় ৯জন আহত হয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) রাত ৯টার দিকে তেঘরিয়া শাহেদ আলী স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে ১নং চরপাকেরদহ ইউনিয়ন বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের প্যান্ডেল প্রস্তত করার সময় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন স্থগিত করেছে উপজেলা বিএনপি। সংঘর্ষ নিয়ে দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন।
বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, তেঘরিয়া শাহেদ আলী স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে গত শুক্রাবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) চরপাকেরদহ ইউনিয়ন বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন হওয়ার কথা ছিলো। ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনকে ঘিরে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শাহ মো. মজনু (ফকির) ও যুগ্ম আহ্বায়ক বিপ্লব তরফদার দুজনই নিজেদেরকে সভাপতি প্রার্থী ঘোষণা করেন।
গত বৃহস্পতিবার রাতে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের প্যান্ডেল ও মঞ্চ প্রস্ততের কাজ চলছিলো। এসময় সভাপতি পদ প্রত্যাশী মজনু ফকির ও বিপ্লবের কর্মী সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষ বাধে। পরে মাঠে বিকট শব্দে দুইটি ককটেল বিস্ফোরনের শব্দ শুনা যায়। সম্মেলনের জন্য মাঠে রাখা প্রায় দুই হাজার চেয়ারে পেট্রোল ঢেলে আগুন জালিয়ে দেয়া হয়। স্কুল মাঠে সম্মেলনের জন্য তৈরি করা মঞ্চ এবং কয়েকটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়। এবিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শাহ মো. মজনু ফকির ও ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বিপ্লব তরফদার একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন।
আহত ব্যাক্তিরা হলেন, মাদারগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক শামীম আহমেদ (২২), বালিজুড়ি ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আল আমিন চৌধুরী (২২), যুবদল নেতা শফিকুল ইসলাম (৪০), ছাত্রদল নেতা শ্যামল মিয়াকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও আব্দুস সোবহান (৪১) নামে এক নেতার মাথা গুরতর জখম হয়েছে। আহত অন্যান্য নেতাকর্মীরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ী চলে গেছেন।
সম্মেলনের মাঠে প্যান্ডেলের কাজ করা ডেকোরেটর মালিক জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, গতকাল রাতে বিএনপির সম্মেলনের জন্য প্যান্ডেল ও মঞ্চ তৈরির কাজ করছিলাম। এমন সময় হাঠাৎ কিছু লোক এসে কি জানি ফুটায় ও মাঠে থাকা চেয়ারে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে তেঘরিয়া বাজারের ভিতর থেকে আরও কয়েক’শ মানুষ মাঠে এলে সংঘর্ষ হয়। মাঠে লাইট না থাকায় কউকে চিনতে পারি নাই।
এ বিষয়ে তেঘরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো. মজনু ফকির জানান, বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনের জন্য তেঘরিয়া শাহেদ আলী স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে প্যান্ডেল ও মঞ্চ তৈরির কাজ চলছিলো। ইউনিয়ন বিএনপির বেশ কিছু নেতাকর্মী নিয়ে অফিসে বসে ছিলাম। রাত ৯টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। পরে মানুষের চিৎকার চেচামেচি শুনে মাঠে গিয়ে দেখি উপজেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুখলেছুর রহমান, ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বিপ্লব তরফদার, হুমায়ুন ও স্বপনসহ আরও কয়েকজন সম্মেলন মাঠে ককটেল বিস্ফোরন ঘটায় ও চেয়ারে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে বিএনপির বিক্ষোদ্ধ নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া দিলে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন স্থগিত করার জন্যই তারা এমন কর্মকান্ড ঘটিয়েছে। এই ঘটনার সাথে জড়িতদের বহিষ্কারের দাবী জানান তিনি। অন্যথায় বৃহৎ আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন তিনি। শাহ মোহাম্মদ মোস্তাক কোন রাজনীতির সাথে জড়িত না বলে জানান শাহ মো. মজনু ফকির।
অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়া বিপ্লব তরফদার বলেন, ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে দেখা করে রাতে মিতালী বাজারে যাই। আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মী প্যান্ডেল ও মঞ্চ তৈরির কাজ পরিদর্শন করার জন্য স্কুল মাঠে গেলে মজনু ফকিরের নেতৃত্বে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শাহ মোহাম্মদ মোস্তাক তাদের উপর অতর্কিত হামলা করে লোকজন। এতে আমাদের ৭জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। মজনু ফকিরের লোকজনই প্যান্ডেল ভাঙচুর করে ও চেয়ারে আগুন লাগিয়ে দেয়। আমাদের নেতাকর্মীদের ৬টি মটর সাইকেল ভাঙচুর করে মজনু ফকিরের লোকজন। এখনও পর্যন্ত আমাদের তিনটি মোটর সাইকেল নিখোজ আছে। মাঠে ককটেল বিস্ফোরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। মজনু ফকিরের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের উপর হামলা করা হয়েছে। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শাহ মোহাম্মদ মোস্তাককে বিএনপিতে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য মজনু ফকির উঠেপড়ে লেগেছে।
এবিষয়ে মন্তব্য নেয়ার জন্য উপজেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমানের মোবাইলে একাধিকার কল দিলেও তিনি ধরেননি।
মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ্যাডভোকেট মঞ্জুর কাদের বাবুল খান মুঠোফোনে বলেন, চরপাকেরদহ ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। ওই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন জানান, ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সম্মেলনের মঞ্চ ও চেয়ার ভাঙচুর করা হয়েছে। ককটেল বিস্ফোরনের কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
