
সিরাজুল ইসলাম | সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর কেবল পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি মানবসভ্যতার অস্তিত্বের প্রশ্ন। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এর প্রভাব পড়ছে জীববৈচিত্র্য, কৃষি উৎপাদন এবং গবাদি প্রাণীর জীবনযাত্রায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষি অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংকট অনিবার্য হয়ে উঠবে।
তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও চরম আবহাওয়া গবাদি প্রাণীর স্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। দুগ্ধজাত গবাদিপশুর ক্ষেত্রে হিট স্ট্রেসের কারণে খাদ্য গ্রহণ কমে যায়, দুধ উৎপাদন ও দুধের চর্বি হ্রাস পায়, বাড়ে শ্বাস-প্রশ্বাসের হার এবং কমে যায় প্রজননক্ষমতা। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত তাপের কারণে দুধ উৎপাদন ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
শারীরিক চাপ ও অপুষ্টির ফলে প্রাণীদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে রোগজীবাণু ও প্যারাসাইটের বিস্তার বেড়েছে। নতুন ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে গবাদিপশুর মৃত্যুঝুঁকিও বাড়ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের পরোক্ষ প্রভাব কৃষি ও প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি করছে। বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে যাওয়ায় মাটির উর্বরতা কমছে, চারণভূমি সংকুচিত হচ্ছে, কমে যাচ্ছে পশুখাদ্যের উৎপাদন। খাদ্য, পানি ও চারণভূমির জন্য মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ছে, যা গ্রামীণ জীবিকায় নতুন চাপ সৃষ্টি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার পরিবর্তনের কারণে রোগতত্ত্বেও পরিবর্তন আসছে। মশা ও অন্যান্য বাহক পোকামাকড়ের বিস্তারে প্রাণীদের মধ্যে নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা ও খরা প্রায় প্রতিবছরই কৃষি ও প্রাণিসম্পদে ব্যাপক ক্ষতি করছে। জলোচ্ছ্বাসে লবণাক্ত পানি ফসলি জমি ও চারণভূমিতে ঢুকে পড়ায় গবাদিপশুর খাদ্য সংকট দেখা দেয়। বন্যায় পশুখাদ্য নষ্ট হয়, পানিদূষণের কারণে রোগ ছড়িয়ে পড়ে। খরায় পানির অভাব ও তীব্র তাপ প্রাণীদের জীবনকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।
