
বরিশাল প্রতিনিধি : বরিশাল জেলার গ্রাম আদালত কার্যক্রমে গত ২০ মাসে উল্লেখযোগ্য সফলতা এসেছে। গত ফেব্রুয়ারি ২০২৪ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত জেলার ৮৮টি ইউনিয়ন পরিষদে মোট ৪,০১৮টি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯১ শতাংশ (৩,৬৪১টি) মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। শুধু তাই নয়, নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত আবেদনকারীদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রায় ৯ কোটি ৫৫ লাখ ৮৬ হাজার ৬৩০ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার (৩ নভেম্বর) সকালে বরিশাল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গ্রাম আদালত কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে স্থানীয় অংশীজনদের সাথে এক সমন্বয় সভায় এই তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের সহযোগিতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ এই সভার আয়োজন করে।
কার্যক্রমের অগ্রগতি এক নজরে
সভায় উত্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল জেলার গ্রাম আদালতের কার্যক্রমের প্রধান পরিসংখ্যানগুলো নিম্নরূপ:
| সূচক | সংখ্যা / হার | মন্তব্য |
|—|—|—|
| মোট মামলা গ্রহণ (ফেব্রুয়ারি ‘২৪ – সেপ্টেম্বর ‘২৫) | ৪,০১৮টি | |
| মোট মামলা নিষ্পত্তি | ৩,৬৪১টি | |
| মামলা নিষ্পত্তির হার | ৯০.৬২% | উল্লেখযোগ্য সফলতা |
| নিষ্পত্তির পর বাস্তবায়নের হার | ৯৮% (৩,৫৯৮টি) | আদালতের রায়ের কার্যকারিতা |
| দেওয়ানী মামলা | ১,৯৮৭টি | |
| ফৌজদারি মামলা | ২,০৩১টি | |
| নারী আবেদনকারীর মামলা | ৯২৪টি (২৩%) | |
| উচ্চ আদালত থেকে প্রেরিত মামলা | ২২৫টি | |
| আবেদনকারীদের প্রদত্ত ক্ষতিপূরণ | ৯ কোটি ৫৫ লক্ষ ৮৬ হাজার ৬৩০ টাকা | বিশাল অঙ্কের আর্থিক মুক্তি |
প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক কমল ব্যানার্জী সভায় গ্রাম আদালতের এই অগ্রগতি তুলে ধরেন। এছাড়াও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার পক্ষ থেকে এনজিও নেটওয়ার্কের সভাপতি কাজী জাহাঙ্গীর কবির গত ছয় মাসের প্রচার কার্যক্রমের অগ্রগতি উপস্থাপন করেন।
সমন্বয় সভায় অংশীজনদের মত
বরিশাল স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক লুসিকান্ত হাজং-এর সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, গ্রাম আদালত আইন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইন। এর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে অনেক হয়রানি থেকে মুক্তি দিতে পারে।
তারা মনে করেন, সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যম—যারা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করে—তাদের সঠিক প্রচার ও অংশগ্রহণের মাধ্যমেই সাধারণ জনগণ গ্রাম আদালত সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাবে এবং ন্যায়বিচারের জন্য গ্রাম আদালতে যেতে আস্থা ফিরে পাবে।
সভাপতি লুসিকান্ত হাজং উপস্থিত সবাইকে নিজ নিজ কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় গ্রাম আদালত বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সকল পক্ষ একযোগে কাজ করলে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং গ্রামীণ জনগণ হয়রানি ছাড়াই ন্যায়বিচার লাভ করতে পারবে।
সভায় বরিশাল মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মেহেরুন নাহার মুন্নি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুম বিল্লাহ, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ এবং সরকারি-বেসরকারি ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিসহ ৩৫ জন অংশ নেন।
