
দ্রুত পানি দিয়ে ধোয়ার পরামর্শ চিকিৎসকদের
স্বাস্থ্য ডেস্ক : বিভিন্ন কারণে চোখে আঘাত লাগতে পারে। এর মধ্যে কেমিক্যালজনিত আঘাত অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বব্যাপী চোখের আঘাতের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ঘটে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যালের কারণে। কর্মক্ষেত্রে এ ধরনের দুর্ঘটনা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, চোখের জন্য ক্ষতিকর কেমিক্যাল সাধারণত তিন ধরনের—ক্ষার, অম্ল ও ইরিটেন্ট। এর মধ্যে ক্ষারজাতীয় কেমিক্যাল সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক। কারণ, এটি চোখের ভেতরের অংশ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং অন্ধত্বের ঝুঁকি বাড়ায়।
অন্যদিকে অম্লজাতীয় কেমিক্যাল তুলনামূলক কম ক্ষতিকর হলেও চোখে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। ইরিটেন্ট ধরনের কেমিক্যাল মূলত চোখে জ্বালাপোড়া ও অস্বস্তি সৃষ্টি করে।
চোখে কেমিক্যাল পড়লে সাধারণত চোখ লাল হয়ে যাওয়া, তীব্র ব্যথা, জ্বালাপোড়া, অতিরিক্ত পানি পড়া, খচখচে অনুভূতি, চোখের পাতা ফুলে যাওয়া এবং দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দ্রুত প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া। চোখে কেমিক্যাল পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট পরিষ্কার পানি দিয়ে চোখ ধুতে হবে। এতে কেমিক্যাল ধুয়ে বের হয়ে যায় এবং ক্ষতির মাত্রা কমে।
তবে চোখ ডলাডলি করা যাবে না। কারণ এতে কর্নিয়াসহ চোখের অন্যান্য অংশে ক্ষতি আরও বাড়তে পারে। অনেকেই গরম কাপড় দিয়ে সেঁক দেন, যা চিকিৎসকদের মতে সম্পূর্ণ ভুল পদ্ধতি।
প্রাথমিকভাবে পানি দিয়ে ধোয়ার পর দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তাঁদের মতে, বাইরে থেকে আঘাত সামান্য মনে হলেও চোখের ভেতরে গুরুতর ক্ষতি হতে পারে।
চোখে কেমিক্যালজনিত দুর্ঘটনা এড়াতে কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষামূলক চশমা ব্যবহার এবং কেমিক্যালজাতীয় পদার্থ শিশুদের নাগালের বাইরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সচেতনতা বাড়লে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
