
টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে পাহাড় ধসে গত তিন দিনে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শিশু ও রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যাই বেশি। প্রবল বর্ষণ ও পাহাড় ধসে ঘরবাড়ি চাপা পড়া, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র বিধ্বস্ত হওয়া এবং বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চট্টগ্রামে গত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আজ বুধবার চট্টগ্রামে পৃথক দুটি পাহাড় ধসের ঘটনায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সকাল ১০টার দিকে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড় ধসে মাটিচাপায় ১০ মাস বয়সী মো. আশরাফুল ইসলাম তানভীরের মৃত্যু হয়। চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. জুনায়েত কাউছার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর পাঁচলাইশ থানার মেয়র গলি এলাকার চশমা হিলে পাহাড় ধসে ১১ বছর বয়সী সামিয়া আক্তারের মৃত্যু হয়। চশমা হিলের বাবু কলোনির দুটি ঘরের ওপর পাহাড়ের বড় একটি অংশ ভেঙে পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
একই দিনে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দুপুরে ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি মাদরাসায় পাহাড় ধসে পড়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়ের কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, দুর্যোগের সময় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ওই মাদরাসায় অনেক রোহিঙ্গা অবস্থান করছিলেন। ধ্বংসস্তূপে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে উদ্ধারকারী দল আশঙ্কা করছে।
এর আগে গত মঙ্গল ও সোমবার চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও কক্সবাজারে পাহাড় ও দেয়াল ধসে এবং বৃষ্টির পানিতে ডুবে আরও ১৩ জনের মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে তিন দিনে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে নিহতের সংখ্যা ২০ জনে দাঁড়িয়েছে।
রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টি ও স্থবির যোগাযোগ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ২৩৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার রেকর্ড করা হয় ৪১২ মিলিমিটার। আবহাওয়াবিদদের মতে, ১৯৮৩ সালের ৪ আগস্ট ৪১১ মিলিমিটারের পর এটিই চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড।
অতিবৃষ্টির ফলে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। নগরীর নিচু এলাকাগুলো তলিয়ে যাওয়ায় বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এছাড়া লাইনের ওপর পানি ও ক্ষতির আশঙ্কায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসে প্রাণহানির পুনরাবৃত্তি ঘটছে। ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ পুনর্বাসনে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
