
নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক : তীব্র শীতের রাতে যখন চারপাশ নিস্তব্ধ, অধিকাংশ মানুষ উষ্ণ বিছানায় ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালেন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) গভীর রাতে তিনি রায়পুর উপজেলার ২ নম্বর উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের পুরান বেরীর চান্দার খাল সংলগ্ন মেঘনা নদী এলাকায় নৌকায় ভাসমান প্রায় ৪০টি অসহায় পরিবারের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন।
জানা গেছে, চান্দার খাল সংলগ্ন এলাকাটি মেঘনা নদীঘেঁষা একটি নৌকাভিত্তিক জনপদ। এখানে বসবাসকারী অনেক পরিবার বছরের পর বছর নৌকাতেই জীবনযাপন করছে। মাছ ধরা, নৌকা চালানো কিংবা দিনমজুরির কাজ করে তাদের জীবিকা চলে। স্থায়ী ঘরবাড়ি না থাকায় শীত মৌসুমে এসব পরিবার সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ে। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা চরম ঝুঁকির মধ্যে থাকেন।
শীতের তীব্রতা বাড়ায় বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গভীর রাতেই সরাসরি ঘটনাস্থলে যান ইউএনও মেহেদী হাসান কাউছার। নৌকায় করে একে একে ভাসমান পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছে নিজ হাতে কম্বল তুলে দেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী মিস সাথী আক্তার ও সন্তান। পরিবারসহ এমন উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ভিন্ন মাত্রার অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে।
কম্বল পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ভাসমান জনপদের মানুষজন। ১৪ বছর বয়সী রায়হান বলে, ‘সারারাত খুব ঠান্ডা লাগে। গায়ে কিছু থাকে না। আজ কম্বল পাইছি, এখন আর এত ঠান্ডা লাগবে না।’
ভাসমান বাসিন্দা সফি সরদার বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, নৌকায় থাকি। এই রাতে স্যার নিজে নৌকায় আইসা কম্বল দিছেন—এইটা কোনোদিন ভুলব না।’
চবুরা খাতুন নামের এক নারী বলেন, ‘বাচ্চা লইয়া রাতে খুব কষ্ট হয়। আজ কম্বল পাইছি, মনে শান্তি লাগতেছে।’
এ বিষয়ে ইউএনও মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, ‘শীত মৌসুমে সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের দায়িত্ব। নৌকায় বা নদীর পাড়ে বসবাসকারীদের কষ্ট অনেক বেশি। এই সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
ইউএনওর এই মানবিক উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
