

সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা :
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করা হবে। চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব, ঘুষ, খুন, গুম ও মিথ্যার রাজনীতির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই বলে তিনি দাবি করেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জামায়াতে ইসলাম চাঁদাবাজি করে না, ধান্দাবাজি করে না, দালালি ও মাস্তানি করে না। আমরা ঘুষ বাণিজ্য, দখলদারত্ব, খুন-গুম, অপহরণ ও মানুষের হক নষ্ট করার রাজনীতি করি না। মিথ্যা মামলা ও হামলার রাজনীতিতেও আমাদের বিশ্বাস নেই।’ তাঁর ভাষ্য, এর প্রমাণ এ দেশের ১৮ কোটি মানুষ।
তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পর জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের কোনো মানুষের তিল পরিমাণ ক্ষতি করেনি। আমরা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।’
সাতক্ষীরাকে জামায়াতে ইসলামের শক্ত ঘাঁটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই জেলার মাটি জামায়াতে ইসলামের ঘাঁটি। আগের চেয়ে এই ঘাঁটি আরও শক্তিশালী হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে সাতক্ষীরার মানুষ এর প্রমাণ দেবে।’
২০১৫ সালের স্মৃতিচারণ করে জামায়াত আমির বলেন, সে সময় তিনি সাতক্ষীরায় এসেছিলেন ৪৫ জন শহীদের পরিবারের খোঁজ নিতে। মোটরসাইকেলে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে শহীদ পরিবারের সদস্য, বিধবা নারী ও আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তিনি বলেন, ‘সেসব মায়ের চোখের পানি, যুবকদের কাটা হাত-পায়ের যন্ত্রণা আজও আমাকে নাড়া দেয়।’
ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণেই সাতক্ষীরাকে দীর্ঘদিন পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ‘এই জেলার সঙ্গে সৎ মায়ের মতো আচরণ করা হয়েছে,’—বলেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীকে দেশের সবচেয়ে নির্যাতিত রাজনৈতিক দল দাবি করে তিনি বলেন, দলটির বহু নেতাকর্মীকে হত্যা ও গুম করা হয়েছে, অনেককে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। দলের নিবন্ধন ও প্রতীক বাতিল করা হয়েছে এবং একপর্যায়ে দল নিষিদ্ধ করা হয়।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ যখন আমাদের এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিয়েছেন, তখন আমরা সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছি। জননিরাপত্তা রক্ষায় নেতাকর্মীদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছি।’
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিতদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো এবং দায়িত্ব অনুযায়ী ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা হবে।
ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভোট মানে দুটি পথ—হ্যাঁ এবং না। হ্যাঁ মানে স্বাধীনতা, না মানে পরাধীনতা।’ তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জামায়াত প্রার্থীদের সমর্থন চান তিনি। তাঁর ভাষ্য, মদিনা সনদের আদলে সুশাসন প্রতিষ্ঠাই জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য।
সমাবেশে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা-১ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জতউল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রার্থী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের প্রার্থী রবিউল বাশার এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনের প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আজিজুর রহমান। এ ছাড়া ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের নেতৃবৃন্দও বক্তব্য দেন।
প্রধান কার্যালয়ঃ মহা সি.এন.জি ভবন সংলগ্ন (৪র্থ তলা), ঢাকা- ময়মনসিংহ রোড, মাওনা চৌরাস্তা, শ্রীপুর, গাজীপুর।
মোবাইলঃ ০১৫৩১-১৭২৭৫০ , ইমেইলঃ dbhorerpatrika.com
ওয়েবসাইটঃ www.bhorerpatrika.com বিজ্ঞাপনঃ ০১৩০৫-৯৫০৬২৫ ইমেইলঃ info@bhorerpatrika.com