
ইসলামি ডেস্ক : কোরবানি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা ত্যাগ, আনুগত্য ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের শিক্ষা দেয়। কোরবানির মূল ভিত্তি হলো হজরত ইব্রাহিম (আ.)–এর মহান ত্যাগের ঘটনা, যা মুসলিম উম্মাহর জন্য চিরন্তন আদর্শ হিসেবে বিবেচিত।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন,
“নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি, অতএব আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কোরবানি করুন।” (সূরা আল-কাওসার: ১–২)
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কোরবানি করে না, সে যেন ঈদগাহের নিকটেও না আসে (আহমদ, ইবনে মাজাহ)। অন্য এক হাদিসে এসেছে, কোরবানির দিনে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো কোরবানি (তিরমিজি)।
কোরবানির অর্থ ও তাৎপর্য
‘কোরবানি’ শব্দের অর্থ নৈকট্য লাভ করা বা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে প্রিয় বস্তু ত্যাগ করা। কোরআনে ‘নাহর’ শব্দের মাধ্যমে কোরবানির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার অর্থ জবাই বা আল্লাহর নামে উৎসর্গ করা।
ইসলামের দৃষ্টিতে কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়; বরং এটি আত্মত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের প্রতীক।
কোরবানির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
ইতিহাস অনুযায়ী, মানবজাতির প্রথম যুগেই কোরবানির প্রচলন শুরু হয়। হজরত আদম (আ.)–এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিলের ঘটনা কোরবানির প্রথম দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।
হাবিলের কোরবানি আল্লাহর কাছে কবুল হলেও কাবিলের কোরবানি কবুল হয়নি। এ থেকেই বোঝা যায়, কোরবানি কবুল হওয়ার মূল শর্ত হলো তাকওয়া ও আন্তরিকতা।
হজরত ইব্রাহিম (আ.)–এর মহান ত্যাগ
কোরবানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস হলো হজরত ইব্রাহিম (আ.)–এর ঘটনা। আল্লাহর নির্দেশে তিনি তাঁর প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)–কে কোরবানি করতে প্রস্তুত হন।
কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“অতঃপর যখন তাঁরা উভয়ে আল্লাহর নির্দেশ মেনে আত্মসমর্পণ করল এবং ইব্রাহিম (আ.) ইসমাইল (আ.)–কে কোরবানি করতে শুইয়ে দিলেন, তখন আমি তাঁকে ডাক দিয়ে বললাম—হে ইব্রাহিম! তুমি স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছো।” (সূরা আস-সাফফাত: ১০৩–১০৫)
আল্লাহ তায়ালা তাঁর এই আনুগত্যকে কবুল করে ইসমাইল (আ.)–এর পরিবর্তে একটি পশু কোরবানির ব্যবস্থা করেন। এ ঘটনাই ইসলামে কোরবানির ভিত্তি স্থাপন করে।
কোরবানির শিক্ষা
কোরবানির মূল শিক্ষা হলো—আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রিয় বস্তু ত্যাগে প্রস্তুত থাকা। এটি মানুষের ভেতরে আত্মত্যাগ, ধৈর্য, তাকওয়া ও ঈমানের শক্তি বৃদ্ধি করে।
রাসূল (সা.) বলেছেন, কোরবানির প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকি রয়েছে (ইবনে মাজাহ)। অর্থাৎ, খালেস নিয়তে কোরবানি করলে এর প্রতিদান অসংখ্য।
সামাজিক দিক ও দায়িত্ব
ইসলাম নির্দেশ দিয়েছে, কোরবানির গোশত শুধু নিজের জন্য নয়; বরং আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, গরিব ও অসহায়দের মাঝে বিতরণ করতে হবে, যাতে সমাজে সমতা ও সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠা পায়।
উপসংহার
কোরবানি মুসলিম জীবনে শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি আত্মশুদ্ধি ও ত্যাগের শিক্ষা। হজরত ইব্রাহিম (আ.)–এর এই মহান আদর্শ অনুসরণ করাই একজন প্রকৃত মুমিনের লক্ষ্য।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা অনুধাবন করে জীবন গড়ার তাওফিক দান করুন—আমিন।
প্রধান কার্যালয়ঃ মহা সি.এন.জি ভবন সংলগ্ন (৪র্থ তলা), ঢাকা- ময়মনসিংহ রোড, মাওনা চৌরাস্তা, শ্রীপুর, গাজীপুর।
মোবাইলঃ ০১৫৩১-১৭২৭৫০ , ইমেইলঃ dbhorerpatrika.com
ওয়েবসাইটঃ www.bhorerpatrika.com বিজ্ঞাপনঃ ০১৩০৫-৯৫০৬২৫ ইমেইলঃ info@bhorerpatrika.com