কালবৈশাখী ঝড়ে ফেনীতে ব্যাপক ক্ষতি, বিদ্যুৎহীন বহু এলাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

ফেনী প্রতিনিধি : কালবৈশাখী ঝড়ে ফেনীর জনপদ ব্যাপকভাবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। ঝড়ে অসংখ্য গাছ উপড়ে পড়েছে, ভেঙে গেছে বৈদ্যুতিক খুঁটি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বসতঘর। এতে জেলার অধিকাংশ এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যা সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত অনেক স্থানে স্বাভাবিক হয়নি।

রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে শুরু হওয়া এই ঝড়ের তাণ্ডবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলা।

পরশুরাম পৌর এলাকার বাসপদুয়া, গুথুমা এবং মির্জানগর ইউনিয়নের সত্যনগর, নিজকালিকাপুর, চিথলিয়া ও বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ঝড়ে গাছ উপড়ে ঘরবাড়ির ওপর পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

গুথুমা গ্রামের বাসিন্দা আবু তাহের বলেন, “ঝড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে ট্রান্সফরমার মাটিতে পড়ে যায়।”

বাসপদুয়া গ্রামের রাশেদুল ইসলাম ডলার ও নিজকালিকাপুর গ্রামের রমজান আলী জানান, গাছ পড়ে বসতঘর ও বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে সন্ধ্যার পর থেকেই পুরো এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত।

পরশুরাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. সুহেল আখতার বলেন, ঝড়ে ৩৩ কেভি লাইনসহ সব ১১ কেভি লাইনে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। একাধিক স্থানে খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় এবং লাইনের ওপর গাছ পড়ে থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। কর্মীরা দ্রুত লাইন সচল করতে কাজ করছেন।

ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার নূর হোসাইন বলেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ায় বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন হয়েছে। কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন, তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।

ফুলগাজী উপজেলায়ও ঝড়ের তাণ্ডবে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। মুন্সীরহাট–নোয়াপুর সড়কের অন্তত পাঁচটি স্থানে বড় গাছ উপড়ে পড়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গাছ অপসারণে কাজ শুরু করেন।

ফুলগাজী ফায়ার সার্ভিসের ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর মো. তারেকুল ইসলাম বলেন, সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে তাদের টিম কাজ করছে।

ফুলগাজী জোনের ডিজিএম মো. হাবিবুর রহমান জানান, উপজেলার ১০টি ফিডারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পুরো এলাকা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে।

ঝড়ের প্রভাব ফেনীর সদর উপজেলা, দাগনভুঞা ও সোনাগাজীতেও পড়ে। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন।

ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।