
নিজস্ব প্রতিবেদক, লক্ষ্মীপুর : বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা ভূমি অফিসের উদ্যোগে খাজনা আদায়ে ‘হালখাতা’ আয়োজন করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই উদ্যোগে ভূমি মালিকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। উৎসবমুখর পরিবেশে খাজনা পরিশোধের পাশাপাশি আপ্যায়নের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত লোকজ মেলায় ভূমি অফিসের একটি হালখাতা স্টল বসানো হয়েছে। সেখানে সকাল থেকেই ভূমি মালিকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকে পরিবারসহ এসে খাজনা পরিশোধ করেন এবং ঐতিহ্যবাহী খাবার খেয়ে আনন্দ ভাগ করে নেন।
এ আয়োজনের অংশ হিসেবে ১ হাজার ৬০০ শতক জমির খাজনা পরিশোধ করে আবু তাহের জিল্লুর ‘বছরের সেরা খাজনা দাতা’ হিসেবে স্বীকৃতি পান। তাঁকে ভূমি প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি ক্রেস্ট দেওয়া হয়। খাজনা পরিশোধের পর তাঁকে বাতাসা, আঙুলি ও বিভিন্ন মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।
খাজনা দিতে এসে সন্তোষ প্রকাশ করেন ভূমি মালিক একেএম সাইফুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘এভাবে উৎসবের আমেজে খাজনা দিতে পারা সত্যিই আনন্দের। এতে ঝামেলা কম মনে হয়, বরং আগ্রহ বাড়ে।’
এর আগে গত ৩০ চৈত্র (১৩ এপ্রিল) উপজেলা পরিষদের স্পন্দন হলরুমে মাসব্যাপী হালখাতা উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাহাত উজ জামান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় ‘নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করি, জমির মালিকানা সুদৃঢ় করি’ প্রতিপাদ্য তুলে ধরা হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আরাফাত হুসাইন বলেন, একসময় বাংলা বছরের শুরুতে জমির খাজনা আদায়ে হালখাতার প্রচলন ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা হারিয়ে গিয়ে বর্তমানে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। সেই ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অনেক ভূমি মালিক ব্যস্ততার কারণে সময়মতো খাজনা পরিশোধ করতে পারেন না। হালখাতার মাধ্যমে তাঁদের উৎসাহিত করা গেলে নিয়মিত খাজনা আদায় সহজ হবে এবং সরকারের রাজস্ব বাড়বে। পাশাপাশি ভূমি সংক্রান্ত জটিলতাও কমবে।
হালখাতা উপলক্ষে উপজেলার সবগুলো ভূমি অফিস সাজানো হয়েছে। খাজনা দিতে আসা ব্যক্তিদের জন্য রাখা হয়েছে বাতাসা, মোয়া, মিষ্টি, পান ও সুপারি—বাংলার ঐতিহ্যবাহী আপ্যায়ন।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কমলনগরে গড়ে মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে নামজারি সম্পন্ন করা হয়, যেখানে অন্যান্য জেলায় এ কাজে সময় লাগে ২৮ দিনেরও বেশি। দ্রুত সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে লক্ষ্মীপুর জেলার মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে কমলনগর।
চলতি ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে ইতিমধ্যে প্রায় ৯৩ শতাংশ খাজনা আদায় সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলার পাঁচটি ভূমি অফিসের অধীনে নয়টি ইউনিয়নে একযোগে এই হালখাতা আয়োজন করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ইতিমধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
