কদর বাড়ছে সাতক্ষীরার মিঠাপানির মাছের শুঁটকির

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ১ বছর আগে

  • সিরাজুল ইসলাম, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরায় মিঠাপানির মাছের শুঁটকি উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছেন মাছ চাষিরা। শুঁটকি উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছেন এখানকার ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টরা।

সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরায় প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ মিঠাপানির মাছ উৎপাদন করেন এখানকার মৎস্য চাষিরা। যা থেকে শুঁটকি উৎপাদন করছেন তারা। চলতি বছর জেলার বিভিন্ন খাল, ঘের, পুকুরসহ ৬৩ হাজার জলাশয়ে ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে মিঠাপানির মাছ চাষ করা হচ্ছে। আর এসব চাষ করা মাছের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টন। যার বাজারমূল্য ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকারও বেশি। তবে প্রতিবছর সাতক্ষীরা থেকে কী পরিমাণ শুঁটকি উৎপাদন করা হয় সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি দপ্তরটি।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবছর সাতক্ষীরাতে প্রায় এক হাজার টন শুঁটকি উৎপাদন করা হয়। এর ভেতরে সিলভারকার্প, বাটা, তেলাপিয়া, পুঁটিসহ রুই জাতীয় মাছের শুঁটকি তৈরি হয় বেশি।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বিনেরপোতা এলাকার শুঁটকি উৎপাদনকারী সাধন চন্দ্র জানান, বিগত কয়েক বছর ধরে জেলার বিভিন্ন মাছের আড়ত থেকে সিলভার কার্প, মৃগেল, বাটা, তেলাপিয়া ও পুঁটিমাছ কিনছেন। মাছ কেনার পর বিনেরপোতার বেতনা নদীর ধারে তার খামারে শুঁটকি তৈরি করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, তার খামারে প্রতি মাসে প্রায় ৮ টন শুঁটকি মাছ উৎপাদন করা হয়। উৎপাদিত এসব শুঁটকি চট্টগ্রাম ও উত্তরবঙ্গের সৈয়দপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। যার বাজার মূল্য দেড়কোটি টাকারও বেশি।

একই এলাকার অপর শুঁটকি ব্যবসায়ী নৃপেণ দাস জানান, স্থানীয়ভাবে কম দামের মাছ কিনে শুঁটকি তৈরি করে থাকেন তিনি। পরে এসব শুঁটকি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পোলট্রি ও মাছের ফিড উৎপানকারী প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করেন। আর এ থেকে প্রতিবছর ৫-১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ হয়।

দেশের উত্তরবঙ্গের সৈয়দপুরের বৃহৎ শুঁটকি আড়তের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘প্রতি মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শুঁটকিমাছ সংগ্রহ করি। পরে সেগুলো দেশের বিভিন্ন বাজারে বাজারজাতের পাশাপাশি ভারতে রপ্তানি করি। দেশব্যাপী সাতক্ষীরার শুঁটকির চাহিদা রয়েছে। তা ছাড়া দেশীয় প্রজাতির ছোট ও বড় মাছের শুঁটকি পাওয়া যায় বলে এখানে বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতারা শুঁটকি কিনতে আসেন। শুঁটকির মান অন্য যেকোনো জেলার চেয়ে ভালো।

সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, ‘মিঠাপানির শুঁটকিমাছ উৎপাদনে সম্ভাবনাময় একটি জেলা সাতক্ষীরা। বছরে প্রায় দেড় লাখ টন মাছ উৎপাদন হয় এখানে। যা স্থানীয় আমিষের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিলভারকার্প মাছের শুঁটকির চাহিদা উত্তরাঞ্চলে বেশি। আবার তেলাপিয়া মাছের শুঁটকি কাঁকড়ার খাবার হিসেবে চাহিদা বেশি। আর পশ্চিমবঙ্গে পুঁটি মাছের শুঁটকির চাহিদা রয়েছে। এতে করে গত বছরের চেয়ে এবছর জেলার কার্পজাতীয় মাছের দাম ভালো রয়েছে।