
মোহাম্মদ ইউনুছ অভি :
কক্সবাজারে আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম সংসদ’র উদ্দোগে মাদক,সন্ত্রাস, মানব প্রচার ও আরাকানসহ বিশ্বব্যাপী মুসলিম নিপীড়ন ওইঘুরের কাঁন্না শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও ওইঘুর মসলিম নির্যাতনে প্রতিবাদে আলোচনা সভা ও কেরাত,হামদ না’ত প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার(১৪জুলাই২০২৩)ইং বিকাল ০৩:০০ ঘঠিকায় শহরের আলীর জাহাল সাইমা ওশন সিটি হল মিলনায়তনে এই অনুষ্টান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্টানের প্রথম অধিবেশন’র শুরুতে বিভিন্ন মাদ্রাসা নিয়ে কেরাত,হামদ না’ত প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করে শহরের নিকটতম সাত আটটি মাদ্রাসা,এতে প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের পুরুষ্কার হিসাবে সার্টিফিকেট ও খাম তুলে দেন এলাকার গণমান্য ও শীর্ষ ওলামাগণ।
অনুষ্টানের দ্বিতীয় অধিবেশনের আলোচনা সভায় “আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম সংসদ’র কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতি ওসমান গনি চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রাধান অতিথির বক্তব্য রাখেন,আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম সংসদের চেয়ারম্যান আল্লামা সদরু্দ্দীন মাকনুন, প্রধান বক্তা ছিলেন,(ইউচিটিচি) ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. বেলান নুর আজিজী, সহ সম্পাদক মুফতি তানজিল আমীর, সংদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ইয়াসীন হাবিব, প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা আব্দুল জাব্বার,ছাত্র নেতা এনামুল হক মঞ্জুর, জাতীয় দৈনিক ভোরের চেতনা পত্রিকার উখিয়া প্রতিনিধি ও দৈনিক দুরন্ত পোর্টালের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক তরুণ সাংবাদিক ওমর ফারুক, কক্সবাজার হাশেমিয়া কামিল মাস্টার মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক, মাওলানা আব্দুল মান্নান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ উখিয়া উপজেলা সেক্রেটারী মাওলানা জাহাঙ্গীর রফিক, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা কক্সবাজার জেলা সভাপতি মাওলানা শোয়াইব,কক্সবাজার 71 পত্রিকার সম্পাদক রূহল আমীন সিকদার,বিশিষ্ট লেখক, খন্দকার হামিদ উল্লাহ, কেন্দ্রীয় সংসদের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক রিদওয়ানুল কাবীর, কক্সবাজার জেলা যুব আন্দোলনের সদস্য ও উখিয়া উপজেলা সভাপতি সাইফুল্লাহ চৌধুরী,খেলাফত মজলিস কক্সবাজার শহর শাখার সভাপতি মাওলানা ওমর ফারুক, আল-ফুরকান ফাউন্ডেশনের মহাসচিব মাওলানা ইলিয়াস নুরু, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা সেক্রেটারি ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম সংসদ’র যুগ্ন আহবায়ক আর এম ফরিদুল আলম, আতা উল্লাহ ত্বকী, মুহাম্মদ সলিম সহ গণমাধ্যম সংবাদকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
এতে বক্তারা বলেন,চীনের জিংজিয়াং প্রদেশে চীনা সরকার কতৃক উইঘুর মুসলমানদের উপর চালানো নির্যাতনকে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন দাবী করে করে জাতিসংঘকে ও মুসলিম বিশ্বকে জোরালো ভূমিকা রাখার আহবান জানিয়েছে আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম সংসদ। পাশাপাশি চীনের পণ্য বয়কটের জন্য দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা আরো বলেন, চীনের ২২ লাখ তুর্কি ও উইঘুর মুসলিমদের দীর্ঘদিন যাবৎ গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, যৌন নীপিড়ন, জোরপূর্বক আটকে রাখার প্রতিবাদে এই ‘প্রতিবাদ ও আলোচনা সভার’ আয়োজন করেছে। চীনা সরকার মিডিয়ার সকল কর্মকাণ্ড স্তব্ধ রেখে বছরের পর বছর ২২ লাখ মুসলিমকে বিভিন্ন ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রেখে তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে নির্যাতন, যৌন নীপিড়ন, হত্যাসহ অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় চীনারা পাকিস্তানিদের সহযোগিতা করেছিল।
বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এদেশের মুক্তিকামী জনতা তাদের সহযোগিতা পায় নি।
মিয়ানমারের সরকারের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবসন বন্ধে চায়নাদের পরোক্ষ যোগসাজশ রয়েছে।
চীনা সরকার মানবাধিকার কর্মী, সংবাদকর্মী, জাতিসংঘের কর্মকর্তা এমনকি সংবাদ সংগ্রহে আগ্রহী এমন কাউকে চীনের উইঘুরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, পুরো পৃথিবীকে অন্ধকারে রেখে চীনা সরকার এই সকল অপরাধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তারপরেও সামান্যতম সংবাদ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। যেমন বিবিসি, আল-জাজিরা বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করে কিছু কিছু সংবাদ সংগ্রহ করে প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছে। যাহা দেখে ও শুনে আমরা হতবাক হয়েছি। পুরো বিশ্বের মানুষ এটা মেনে নিতে পারেনি। আমরা চীনা সরকারের এ ধরনের গর্হিত অপরাধ কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
বক্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহ মিত্ররা চীনের উপর নামেমাত্র অবরোধ আরোপ করে দায়সারা দায়িত্ব পালন করেছে। কিন্তু চীনের দানব সরকার এই সামান্য অবরোধ ও চাপে ক্ষ্যান্ত হয়নি এবং হবেও না। তাকে থামাতে হলে বিশ্বের সকল দেশ মিলে জাতিসংঘে প্রস্তাব পাশ করিয়ে চীনের উপর ব্যাপক ভিত্তিক অবরোধ আরোপ করে চাপ তৈরি করুন। অন্যথায় চীনা দানব সরকার কোনভাবেই গর্হিত কর্মকাণ্ড হতে পিছপা হবে না। তারা অর্থনৈতিকভাবে ধনী দেশ হওয়ার কারণে সারা বিশ্বের উপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতে চায় এবং মুসলিমদের হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, যৌন নীপিড়ন ইত্যাদি অবলীলায় চালিয়ে গেলেও কেউ তাদের আটকাতে সাহস পায় না।
‘তারা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর আদলে সারা বিশ্বের বাণিজ্য করিডোর দখল নেওয়ার ঘৃণ্যতম চেষ্টায় লিপ্ত। এভাবে চলতে থাকলে যেকোন সময় শ্রীলংকার মতো বিশ্বের বিভিন্ন দেশ চায়না সরকারের থাবায় আক্রান্ত হয়ে একসময় নিঃস্ব হয়ে যাবে। আমরা সারা বিশ্বের সকল সরকারগুলোকে দ্যার্থহীনভাবে জানাতে চাই এখনই চায়না সরকারের সকল অপরাধ কর্মকাণ্ড বন্ধের বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিন। নাহলে একসময় তারা বিশ্বের বাঘা বাঘা দেশকেও গিলে ফেলবে বলে মনত্বব্য করেন বক্তারা।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দৃষ্টি আকার্ষণ করে বক্তারা বলেন, আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলতে চাই, আপনিতো এখন বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে সমাসীন। আপনার অদম্য সাহস এবং সুদূরপ্রসারী নেতৃত্বে বাংলাদেশ অনেকদূর এগিয়ে গেছে এবং আপনি সারাবিশ্বের প্রশংসা ও কুড়িয়েছেন। আপনার সাহসিকতা সারাবিশ্বে প্রশংসিত, আপনার সাহসিক নেতৃত্ব মুসলিমদের পক্ষে যাবে সেটাই আমরা আশা করি।
