
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা (লাকসাম) : কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় একদিনে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১০ জন শিশু এবং একজন বৃদ্ধ নারী রয়েছেন। এ ঘটনায় পুরো উপজেলায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে কয়েকজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন, তবে কয়েকজন এখনো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজিয়া বিনতে আলম বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কান্দিরপাড়, হামিরাবাগ, সাতবাড়ীয়া, মুদাফরগঞ্জ, নরপাটি, বাকই দক্ষিণসহ পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে বেওয়ারিশ কুকুরের দল বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জনকে কামড়ানোর ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, ১২–১৫টি কুকুরের একটি দল একসঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং সামনে যাকেই পাচ্ছে, তাকেই আক্রমণ করছে।
কুকুরের কামড়ে আহতদের মধ্যে রয়েছে—
সিজরাতুল মোনতাহার (৬), আনিকা (৭), ওমরা (৭), আয়ন (৬), নুসরাত (৫), রাইসা (১০), আয়া (১৬ মাস), মিম (১২), আরিফ (২), মমিনা খাতুন (৭০) ও জান্নাতুল ফেরদৌস (৬)।
উপজেলা পরিষদের সামনে ব্যবসায়ী মুখছেদ আলী বলেন, তার মেয়ে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে কুকুরের কামড়ে আহত হয়।
তিনি বলেন, “এখন দিনে-রাতে কুকুর দল বেঁধে ঘোরে। বিশেষ করে শিশু ও নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে।”
সাংবাদিক কামাল উদ্দিন বলেন, “রাস্তাঘাটে দলবদ্ধ কুকুরের কারণে চলাচলই আতঙ্কের হয়ে গেছে। অনেক কুকুর খাবারের দোকানের সামনে বসে খাবারেও মুখ দেয়।”
চিকিৎসক মোজ্জাম্মেল হোসেন বলেন, কুকুরের কামড়কে অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসা ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা নিলে ঝুঁকি অনেক কমানো সম্ভব।
লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নার্গিস সুলতানা বলেন, “পরিবেশগত কারণে বেওয়ারিশ কুকুর নিধনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। তবে নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্যাম্পেইন চালানো হবে।”
