
সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন-সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার চিরচেনা ঐতিহ্য তালগাছ। একসময় যেসব এলাকায় রাস্তার দুই পাশে, পুকুরপাড়ে ও বাড়ির আঙিনায় সারি সারি তালগাছ দেখা যেত, এখন তা প্রায় বিলুপ্তির পথে।
স্থানীয়দের পাশাপাশি পরিবেশবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ টিকে থাকতে পারছে না। একই সঙ্গে মানুষের অসচেতনতা ও রোপণে অনাগ্রহও এই গাছ হারিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ।
একসময় বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, খুলনা, বরগুনা, পিরোজপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় তালগাছ ছিল সাধারণ দৃশ্য। গরমে তালপাতার পাখা, তালশাঁস, তালের পিঠা আর তালগাছে বাবুই পাখির বাসা ছিল গ্রামীণ জীবনের অংশ।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, তালগাছ শুধু সৌন্দর্য নয়, জীবিকার সঙ্গেও জড়িত ছিল। তালের রস থেকে গুড়, পাটালি, মিছরি তৈরি হতো। কাঁচা তালের শাঁস ছিল জনপ্রিয় খাবার। পাশাপাশি গাছটি বজ্রপাত থেকে রক্ষা করে—এমন বিশ্বাসও প্রচলিত ছিল।
ভূরুলিয়া এলাকার কৃষক শমন মণ্ডল বলেন, “আগে বাড়ির পাশে তালগাছ ছিল, এখন আর নেই। নতুন করে কেউ গাছ লাগায় না।”
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, তালগাছ উঁচু হওয়ায় বজ্রপাত থেকে মানুষ ও পশুসম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে এটি নদীভাঙন প্রতিরোধেও সহায়ক।
তবে বাস্তবতা হলো—সরকারি উদ্যোগ থাকলেও মাঠপর্যায়ে তালগাছ রোপণ কার্যক্রম খুবই সীমিত। ফলে ভবিষ্যতে এই ঐতিহ্যবাহী গাছটি আরও সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পরিবেশকর্মীরা বলছেন, এখনই পরিকল্পিতভাবে তালগাছ রোপণ ও সংরক্ষণে উদ্যোগ না নিলে গ্রামবাংলার এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য শুধু বইয়ের পাতাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
প্রধান কার্যালয়ঃ মহা সি.এন.জি ভবন সংলগ্ন (৪র্থ তলা), ঢাকা- ময়মনসিংহ রোড, মাওনা চৌরাস্তা, শ্রীপুর, গাজীপুর।
মোবাইলঃ ০১৫৩১-১৭২৭৫০ , ইমেইলঃ dbhorerpatrika.com
ওয়েবসাইটঃ www.bhorerpatrika.com বিজ্ঞাপনঃ ০১৩০৫-৯৫০৬২৫ ইমেইলঃ info@bhorerpatrika.com